বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেখা দিয়েছে সাপ আতঙ্ক। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত মাঠ-ঘাটের কারণে বিষধর ও নির্বিষ সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ঘরবাড়ি, আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রায় প্রতিদিনই সাপের দেখা মিলছে। সূত্র: জাগো নিউজ
বসতির আশপাশে সাপের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। বিষয়টির সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের সারাটা সময় সাপ লোকালয়মুক্ত এলাকায় থাকে। তখন সচরাচর চোখে পড়ে না। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত জায়গা, অপরিষ্কার ড্রেন ও জলাবদ্ধ পরিবেশ সাপের বিচরণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়ির আঙিনায় চলাচলের রাস্তাসহ বসতির আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত সাপ দেখা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে উপজেলার কাঞ্চন হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের অসংখ্য এলাকা।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ স্থানগুলোর বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সাপ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও বসতঘরের ভেতর, কোথাও রান্নাঘরে, আবার কোথাও গোয়ালঘরে সাপ ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার রাতে ঘুমানোর আগে পুরো ঘর তল্লাশি করে তারপর শুতে যাচ্ছেন।
তেতলাব খালপার এলাকার আল আমিন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, “রাতে দেখি দুটি সাপ বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করছে। এসময় আমি ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের সবাই ছুটে আসে। চার হাত লম্বা একটি সাপ মারতে পারলেও অন্যটি চলে যায়।”
শান্তিনগর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া আক্তার বলেন, ‘রাতে টয়লেটে যেতেও ভয় লাগে। কয়েক দিন আগে রান্নাঘরে একটি সাপ দেখা যায়। এরপর থেকে সন্তানদের একা কোথাও যেতে দিচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আগে বছরে দু-একবার সাপ দেখতাম, এখন প্রায় প্রতিদিনই খবর শুনছি। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
আরেক ভুক্তভোগী কর্ণগোপ এলাকার বাসিন্দা সেলিম ভূঁইয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৭ জুলাই দুপুরে আমার ভাগিনা রাসেলের বাড়িতে একটি সাপ ঢুকে পড়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে গিয়ে সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা সাপটিকে মারতে সক্ষম হয়। আমরা বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে অনেক আতঙ্কে আছি।’
তার মতে, শুধু বর্ষার পানি নয়; অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণেও সাপ মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কাম্য।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাপে কাটার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেকেই এখনো ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করেন। এতে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘সাপে কাটলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রেখে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন। সময়মতো অ্যান্টিভেনম দিলে সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো যায়।’