শিরোনাম
◈ খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার নতুন হার নির্ধারণ ◈ দীর্ঘ ৪৪ বছরের পলাতক জীবন, যেভাবে ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মোজাফফর ◈ জ্বালানি আমদানি কমাতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ◈ চাকরির নামে মানবপাচার, কম্বোডিয়ায় সাইবার দাসত্বের শিকার বাংলাদেশিরা ◈ শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলতেই বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ ভিসার নামে ৫০ কোটি টাকা প্রতারণা, শত শত শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ ◈ বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল ◈ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যস্থতাকারী থেকে সংঘাতের অংশ? কঠিন সমীকরণে পাকিস্তান ◈ ব্যাটারি শিল্পে বড় প্রণোদনা, ২০৩০ পর্যন্ত কর ছাড়

প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল
আপডেট : ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেড়’শ বছরের পুরোনো মহেশপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার সংকট, ক্ষোভে পৌরবাসী

ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার দেড়’শ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই পৌরবাসীর। ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ও অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের।

জানা যায়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহেশপুর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাত নামলেই পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।

সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটি জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।’

এ ব্যাপারে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়