এম, এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরলে স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি পেতে যুবকের বাড়ীর সামনে প্রায় ২৪ ঘন্টা যাবত অনশন করছেন এক নারী।
ওই নারী বিরল উপজেলার ভান্ডারা ইউপি’র খোপড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে বুলবুলি (৩২)। তিনি গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৫ টা থেকে একই ইউপি’র বালান্দোর গ্রামের মমিনুল ইসলাম বাবুলের ছেলে মেহেদি হাসানের বাড়ীর সামনে অবস্থান করছেন। তাঁর এই অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টিসহ ঘটনা স্থলে উৎসুক জনতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
অনশনে থাকা নারী বুলবুলি জানান, গত প্রায় ১ বছর আগে মেহেদী হাসাসের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর ২ জনে স্বামী স্ত্রী হিসাবে বিরল পৌর এলাকার ধজিড়পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। সংসার করা কালীন প্রায় ৩ মাস আগে বুলবুলির গর্ভে সন্তান আসলে মেহেদী হাসান গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে বুলবুলি রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে বিয়ের সব প্রমাণপত্র ছিড়ে নষ্ট করে দেয় মেহেদী এবং বুলবুলিকে ভাড়া বাসায় একা রেখে মেহেদী হাসান পালিয়ে যায়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে বাসা মালিকের স্ত্রীসহ অপর আরও একজন প্রতিবেশি ভাবী বুলবুলিকে নিয়ে মেহেদী হাসানের গ্রামের বাড়ীতে উঠে এবং ঘটনার বিষয় বাড়ীর লোকজনকে জানান। তারা বুলবুলিকে কে মেহেদী হাসানের গ্রামের বাড়ীতে রেখে চলে গেলে কিছুক্ষণ পরেই বাড়ীর লোকজন তাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।
এরপর থেকে বুলবুলি মেহেদী হাসানের স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি পেতে ওই বাড়ীর দরজার সামনে অনশনে বসে।
মেহেদী হাসনের মা জানান, আমাদের বাড়ীর পাশে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনছুর আলীর সাথে বুলবুলির প্রথমে বিয়ে হয়। সেখানে তাঁর বিবাহযোগ্য এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাধে মেহেদী হাসানের সাথে তাঁর সম্পর্ক হয়। পরে সে প্রবাসী স্বামীকে ত্যাগ করে তার বাবার বাড়ীতে যায়। বিষয় গুলো নিয়ে কয়েকবার শালিশ বৈঠকও হয়েছে। এখন বুলবুলি বলছে মেহেদী নাকি তাকে বিয়ে করেছে। তবে কোন কাগজ দেখি নাই।
এলাকার অনেকে জানান, মেহেদী হাসানের সাথে বুলবুলির বেশ কয়েকবার ঘটনা ঘটেছে এবং শালিশ বৈঠকও হয়েছে। এবার বিষয়টির একটি সুরাহা হওয়া দরকার।