এনামুল হক এনা, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, (বাউফল) পটুয়াখালী : নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির উচ্চতায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা এখন চরম দুর্ভোগে। তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, ফসলি জমি ও মাছের ঘের। এতে কৃষকদের পাশাপাশি নদীতীরের হাজারো মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী নাজিরপুর এবং লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী বগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে বেড়িবাঁধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কোথাও কোথাও নদীতীরবর্তী সড়ক, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে আমনের বীজতলা ডুবে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি স্থায়ী হলে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বাউফলের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, “আমি দেড় একর জমিতে রোপণের জন্য অনেক কষ্ট করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছি। এখন টানা বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। আর দুই-একদিন এভাবে পানি থাকলে বীজ পচে যাবে। নতুন করে বীজ ফেলতে হলে অতিরিক্ত খরচ হবে, সময়ও নষ্ট হবে। আমরা এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।”
নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় তাঁদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের শঙ্কায় থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙনরোধে অস্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তারা দ্রুত টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “টানা বৃষ্টিতে উপকূলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একদিকে কৃষকদের বীজতলা ডুবে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদীভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নে আমনের বীজতলা পানির নিচে চলে গেছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কম হবে, তবে দীর্ঘ সময় পানি থাকলে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।”
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “বাউফলে নদীভাঙনের জন্য প্রধানত বগা-লোহালিয়া ও নাজিরপুর-কালাইয়া হয়ে প্রবাহিত তেঁতুলিয়া নদী দায়ী। টানা বৃষ্টিতে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”