সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : বৃষ্টি কমে আসায় কক্সবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে চকরিয়া পেকুয়া ও মাতামুহরিতে এখনো অনেক মানুষ পানি বন্দী। এসব অঞ্চলে খাবার ও বিশুদ্ধ সুপিয় পানির তীব্র সংকর দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণ পর্যাপ্ত নয় বলছেন কন্যা কবলিত এলাকার লোকজন।
বন্যার পানিতে ডুবে গতকাল রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গ্রামের একটি বিলের মাঝখানে হেঁটে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় নিরঞ্জন দাস নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। একই সময় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বড়ই তলী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকায় আতাউল্লাহ নামের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এ নিয়ে নয় দিনে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে মারা গেল রোহিঙ্গা নারী শিশুসহ ৩২ জন।
গতকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় কক্সবাজার সদর, রামু ঈদগাঁও, উখিয়া টেকনাফ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চকরিয়াতেও কিছুটা উন্নতির দিকে রয়েছে। তবে পেকুয়াতে গতকাল বিকালের পর থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে।পানিবন্দি মানুষগুলোর হাহাকার অবস্থা চলছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যার ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে।
এখনো পুরো জেলায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্ধী রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে বন্যা কবলিত এলাকায় এখনো ঠিকমত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না বলে কয়েকটা এলাকা ঘুরে বন্যার্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। ব্যক্তি উদ্যোগে কিছুটা শুকনো খাবারবিতরণ হলেও দুর্গম এলাকায়, আটকে পড়া মানুষদের কাছে এখনো পৌঁছাচ্ছে না। অনেক এলাকায় এখনো না খেয়ে আছে অনেক বান বাসি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন,আবহাওয়া অফিস কত ২৪ ঘন্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা গত নয় দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া ভালো পরিবর্তন আসবে বলেও জানান।