শিরোনাম
◈ সংসদের ছাদ চুইয়ে পানি, ডেপুটি স্পিকারের ঘরেও ‘বাটি থেরাপি’! ◈ ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ◈ ‘আঙ্কেল, একটা ছবি তুলবো প্লিজ’—শিক্ষার্থীদের আবদারে থামলেন প্রধানমন্ত্রী, বললেন ‘আসো, আমি ছবি তুলে দিচ্ছি’(ভিডিও) ◈ সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক ব্যয় অর্ধেক করছে সরকার ◈ প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক সূচনা, জুলাইয়ের ১২ দিনে এলো ১৩২ কোটি ডলার ◈ বিপৎসীমার কাছাকাছি আরও পাঁচ পয়েন্ট, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা ◈ আর্থিক সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থানে আইএমএফের পূর্ণ সমর্থন: অর্থমন্ত্রী ◈ শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক তাকে আগে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন ‍সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশি প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০) ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের বাসিন্দা।

২০০৪ সালে সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে চাপ দিতেন লালন। নির্যাতনের মুখে কয়েক দফায় সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিলেও তা বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট তিনি স্ত্রীর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাকে একাধিকবার মারধর করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যা করেন লালন মোল্লা।

ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে লালন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতেই আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় সমাজে যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়