সিলেটের বিয়ানীবাজারে স্কুলছাত্রী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন রিয়ার বাবা আবু বক্কর। প্রেমের সম্পর্কের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে নিজের মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সিলেটের আদালতে হাজির করা হলে আবু বক্কর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার সঙ্গে গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বছর খানেক আগে তারা একবার পালিয়ে গেলে মাসখানেক পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনে। ছেলেটি বখাটে এবং মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর মেয়েকে শাসন ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েক মাস আগে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে তার নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তবে নানাবাড়িতে থাকলেও স্থানীয় এক যুবকের সহায়তায় রিয়া পুনরায় পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। আবারও পালানোর পরিকল্পনা করে। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পেরে বাবা আবু বক্কর ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন শুক্রবার সকালে মেয়ের নানাবাড়ির লোকজন রিয়াকে আবারও ইনাম গ্রামে নিয়ে যান।
ওইদিন দুপুরে জুম্মার নামাজের সময় সুযোগ বুঝে আবু বক্কর মেয়ের নানাবাড়ির পুকুর ঘাটে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালান। পরে ঘটনাস্থলে রিয়ার মৃত্যু হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামী আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করেছেন আবু বক্কর। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান। উৎস: কালবেলা।