সরওয়ার আজম মানিক,কক্সবাজার : টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেংগে গিয়ে মাতামুহুরি নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এই তিন উপজেলার ৫০ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছনিয়াকাটা গ্রামে পাহাড় ধ্বসে দুই জন নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। গতকাল রাতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা একটি বাড়ির উপর পাহাড় ধ্বসে পড়লে মাটি চাপা পড়ে মারা যায় দুই জন। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষারচর ফাশিয়াখালী ইউনিয়ন মাতামুহুরি উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা, বিএমচর ইউনিয়ন পেকুয়া উপজেলার সদর, পৌরসভা মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে মেহেরনামা এলাকায় মাতামুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেংগে যায়। এতে নদীর পানি ঢুকে আশেপাশের গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, রাজারকুল ইউনিয়ন বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ী ঢলে জলাবদ্ধতা তৈরী হওয়ায় জেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে।
এদিকে টানা বর্ষনের কারণে বেড়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কা। আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
গত চারদিনে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে ১৬ জন সহ কক্সবাজার জেলায় ২০ জন এবং ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।