বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপ সৃষ্টির সমুদ্র বন্দর ৩ নাম্বার সর্তক সংকেত ও নদী বন্দরকে ১ নাম্বার সর্তক সংকেত জারি থাকার কারণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মনপুরা।
এদিকে গত ৫ দিনের টানা বর্ষণে মনপুরার সর্বত্রই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরার সঙ্গে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর (নদীবন্দর) সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায়।
হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাট ও রামনেওয়াজ ঢাকা সার্ভিস ঘাটের বাসিন্দারা জানান, সকাল ১০ টায় ভোলা যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন যাত্রী হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাটে এসেছিল। নৌযান বন্ধ থাকায় তারা ফিরে গেছেন।
এদিকে রামেনওয়াজ ঢাকার সার্ভিস ঘাটে ঢাকা যাওয়ার জন্য যাত্রীরা আসলেও ঢাকা থেকে কোনো লঞ্চ আজকে না আসায় ঢাকা যেতে পারেনি ঢাকাগামী যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলা ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বার সর্তক সংকেত ও নদীবন্দরকে ১ নাম্বার সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নদীবন্দর) নির্মল কুমার রায় জানান, লঘুচাপ ও সর্তক সংকেত থাকায় জেলার সব নৌযান বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গত ৫ দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর হতে বের হতে পারছে না। নিম্ন আয়ের মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকে উপোস রয়েছে। পানিবন্দি এলাকার বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ায় চুলায় হাড়ি না ওঠায় রান্না হয়নি।
এদিকে মেঘনায় ভাটা হওয়ায় বিপৎসীমার নিচে ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটারের নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।
অন্যদিকে ভোর রাতে জোয়ারে উপজেলার বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্মাঞ্চলে ২-৩ ফুট জোয়ারের প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান, সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া, মাস্টারহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রামে অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘর-বাড়ির ভিতরে ২-৩ ফুটে পানি।
এদিকে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে দাসের হাট এলাকা সবচেয়ে নাজুক। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না আসলেও সমাজকর্মী ও সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান ও আবদুর রহমান সোয়েবের প্রচেষ্টায় ওই সমস্ত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে স্বেচ্ছাশ্রমে।
ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজ মেস্ত্রী জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ খোঁজ নেয়নি। তবে সমাজকর্মী আবদুর রহমান সোয়েব ও মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় তারা স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মনপুরা উপকূলে জলাবদ্ধতা যাতে না সৃষ্টি হয়, সেই লক্ষ্যে খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর