শিরোনাম
◈ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, শপথ আজ সন্ধ্যায় ◈ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের নির্দেশনা ◈ শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী ◈ জিন্নাহর গোপন রোগের তথ্য ফাঁস, ৭৯ বছর পর পুরস্কৃত দুই চিকিৎসক ◈ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ◈ ইতালি রোমের আলোচিত ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন নগরবাউল জেমস! ◈ ডলারের দাম অপরিবর্তিত, সপ্তাহজুড়ে ওঠানামা পাউন্ড-ইউরোসহ অন্যান্য মুদ্রায় ◈ বিলের পানিতে হাঁস পালন করে বদলাচ্ছে নড়াইলের তরুণদের ভাগ্য, ডিমের বাজার ২২ কোটি টাকা! ◈ ‘ভুয়া’ খবর বিষয়ক সতর্কবার্তা দিল ভারতীয় হাইকমিশন ◈ পরিবারের বড় ছেলে, যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব: মির্জা ফখরুলকে নিয়ে জামাতা ফাহাম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মুক্তি যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ মন্নাস আলীর অস্ত্রোপচার ৫৫ বছর পর অপসারণ

মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মন্নাস আলীর পেট থেকে ৫৫ বছর পর গুলি অপসারণ করা হয়েছে। তিনি সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেছবি: সংগৃহীত

শাহীন খন্দকারঃ নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলীর (৭৫) ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধের রনাঙ্গনে যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ   শরীর থেকে ৫৫ বছর পর একটি গুলি অপসারণ করা হয়েছে। 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি মিলিটারির ছোড়া গুলিটি তার পেটে বিদ্ধ হয়েছিল।  গতকাল শনিবার (০৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে একটি টিম প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে  অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়। 

বর্তমানে মন্নাস আলীর বাড়ি গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে আছেন । স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি মিলিটারিরা একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেই সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনজন পাকিস্তানি মিলিটারিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। এর প্রতিশোধ নিতে মিলিটারি বাহিনী ওই আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়।

হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে অনেকেই নিহত হন আর কেউ কেউ দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। মন্নাস আলীও তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। পালানোর সময় মিলিটারির ছোড়া একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে তিনি এতোদিন চিকিৎসা করাতে পারেননি। 

এভাবেই শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় দীর্ঘ ৫৫ বছর। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসা এবং চিকিৎসকদের সহযোগিতায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি তার শরীর থেকে অপসারণ করা হয়।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, আমার বাবা বেশির ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আমার বাবার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।

মন্নাস আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন তার শরীরে গুলি রয়েছে। আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। বাবা বলতেন মৃত্যুর পর যেন গুলি বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন আজ গুলিটি বের হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ নামের একজন গতকাল মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আজ সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও ৩-৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়