নিনা আফরিন ,পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে চোখ, হাত ও পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত দুই নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী সদর উপজেলার হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশ।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পটুয়াখালী আদালতে যান। আদালতে হাজিরা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে রিকশাযোগে জেলা শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় পৌঁছালে এক অপরিচিত ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থান জানতে চান। নাসির উদ্দিন বিষয়টি জানেন না বলে জানালে তাকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। আরও ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলের বহরসহ তাকে বাউফলে নিয়ে আসা হয়। পরে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকার মাসুম বিল্লাহ পলাশের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে তার চোখ, হাত ও পা বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, অপহরণকারীরা তার বিকাশ হিসাব থেকে জোরপূর্বক ৩ হাজার টাকা স্থানান্তর করে নেয়। এ ছাড়া তার কাছে থাকা নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। এক পর্যায়ে পুলিশের তৎপরতার টের পয়ে তাকে ছেড়ে দিলে মহিলা কলেজের সামনে থেকে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আজম চৌধুরী বলেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। অপহরণ বা নির্যাতনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।
অপর অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ পলাশ বলেন, অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত যেহেতু পটুয়াখালী সদর থানা এলাকায়, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।