শাহাজাদা এমরান,কুমিল্লা : কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় এসব স্থানের কিছু অংশে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গত ১৬ মে শনিবার কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুর সফর উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই একই স্থানে আবারও দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করা হয়। এতে সরকারি জায়গা উদ্ধার হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় সরকারি জায়গা দখল করে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় এসব স্থানে মাদক কারবারিদের আনাগোনা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; অবৈধ দখলদারদের পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, অতীতেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। বর্তমানে যারা পুনরায় সরকারি জায়গা দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ প্রসঙ্গে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার উচ্ছেদ অভিযানের পরও যদি একই জায়গা পুনরায় দখল হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর উত্থাপিত মাদক কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারি সম্পত্তি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করারও দাবি জানাই।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সরকারি জায়গা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করবে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে মাদক কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।