শিরোনাম
◈ ম্যাকাই টেস্টে ভয়াবহ বিপর্যয়, ১২ রানেই ৫ উইকেট হারাল বাংলাদেশ ◈ ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, ২০২৭ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর ◈ স্থানীয় সরকারে মঈন খান: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা ◈ ছাত্র অবস্থায় এমপি, দুই দশক পর প্রতিমন্ত্রী শামীম লিংকন ◈ দুই প্রতিমন্ত্রী এক মন্ত্রণালয়ে ◈ ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল, ৬ মাসে ১০০ জনের মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ◈ প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে ◈ মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে ◈ শনিবার টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ শ‌নিবার শুরু দ্বিতীয় টেস্ট, জিত‌লে ইতিহাস গড়বে  বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৬, ০৭:১৭ বিকাল
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চার মাস পর আদিব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ১৪ বছরের কিশোরের স্বীকারোক্তি

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার বহুল আলোচিত ও দীর্ঘদিনের ক্লু-লেস শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। প্রায় চার মাসের তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে আদিব আহনাফ তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ২ মার্চ সকালে কর্ণহার থানার বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার বাবার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার গলায় একটি প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সূত্রের সহায়তায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় ডিবি। তদন্তে উঠে আসে, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে আক্রোশ ও প্রতিশোধের মনোভাব থেকে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।

আরএমপি পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মো: গাজিউর রহমান বলেন, গত ২১ জুন অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও ঘটনায় জড়িত আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২২ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে কিশোরটি জানায়, এক মেয়ের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি আদিব আহনাফ জেনে ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়ের মা বিষয়টি তার মাকে অবহিত করলে তার মা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে কৌশলে আদিব আহনাফকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায়।

অভিযান চলাকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কোমরের বেল্ট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়