মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর ভালোবাসা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর প্রেমিকার টানে সুদূর চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে কয়েক বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকার বাসিন্দা জিয়াও লির। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক।
প্রেমের টানে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসেন জিয়াও লি। বর্তমানে তিনি নবীনগর উপজেলার নীলনগর এলাকায় স্বপ্নার মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিদেশি যুবকের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয়দের অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তোলেন। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন জিয়াও লি। হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তিনি আগে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘জাহিদুল ইসলাম’।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে দীর্ঘদিন জানাশোনা ও অধ্যয়ন করার পর স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং কারও প্ররোচনা বা চাপ ছাড়াই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় এক ইমাম তাকে কালেমা পাঠ করিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন।
স্বপ্না আক্তার বলেন, “আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। একসময় আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। দুই পরিবারের সম্মতিতে সবকিছু এগিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব শিগগিরই আমাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভালোবাসার টানে বিদেশ থেকে এসে ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা এ এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। তাই বিষয়টি ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দুই ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের এই সম্পর্ক এখন পরিণয়ের অপেক্ষায়। পরিবারগুলোর আশা, পারস্পরিক ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করবেন স্বপ্না ও জাহিদুল ইসলাম।