শিরোনাম
◈ সাফে জাতীয় দলের জার্সিতে রোনান সু‌লিভান, সরাসরি অভিষেকের অপেক্ষা ◈ নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা ◈ শাহ আমানত বিমানবন্দরে দফায় দফায় চুরি, অন্ধকারে পড়েছিল এক কিলোমিটার এলাকা ◈ আমদানিতে চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম ফের বাড়ছে, আন্তঃব্যাংকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা ◈ অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে ইসরায়েলের বিশ্বজুড়ে নজরদারি, বাদ যায়নি পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও ◈ ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কুশের’ ভয়ংকর বিস্তার, আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা ◈ সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের নির্দেশ ◈ দেশভাগের ৭৯ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত ◈ জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে ভারত: আইএমএফ ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৪২ রাত
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লালমনিরহাটে ধরলায় গোসল করতে নেমে স্কুলপড়ুয়া আপন দুইভাই নিখোঁজ, উদ্ধারে ডুবুরি দল

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‎লালমনিরহাটের মোগলহাট সীমান্তে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে শাওন (১৬) ও সাব্বির (১৪) নামে আপন দুই ভাই নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মেহেদী নামে আরেক কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুই ভাইয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে মোগলহাট সীমান্তের বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন ধরলা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

‎​নিখোঁজ শাওন ও সাব্বির মোগলহাট কর্ণপুর (মেডিকেল মোড়) এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তারা স্থানীয় মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের যথাক্রমে নবম ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

‎​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে শাওন ও সাব্বিরসহ তিন কিশোর ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় দুই ভাই হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাদের সাথে থাকা মেহেদীকে স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উদ্ধার করতে পারলেও, বাকি দুই ভাই স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায়।

Advertisement

পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী নদীতে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুজি করেও তাদের সন্ধান পায়নি। খবর দেওয়া হলে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে প্রাথমিক অভিযানে তারাও ব্যর্থ হলে রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়।

‎​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদীতে নামার আগে কিশোররা আমার সাথে কথা বলেছিল। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় আমি তাদের সাবধানে এবং তীরের কাছাকাছি থাকতে বলেছিলাম। গভীর পানিতে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা নদীতে নামে এবং মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যেতে থাকে। আমি দ্রুত নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেহেদীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও, বাকি দুই ভাইকে রক্ষা করতে পারিনি।

‎​নিখোঁজ দুই ভাইয়ের চাচা আলাল উদ্দিন জানান, এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক দল সন্ধান চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে মূল উদ্ধার কাজ শুরু করবেন।

‎​লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এ কারণে রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসেছে এবং তারা উদ্ধার অভিযান শুরুও করে দিয়েছে।

‎​সর্বশেষ খবর পাওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুই ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোগলহাট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীর পাড়ে নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

  • সর্বশেষ