শিরোনাম
◈ ১২ দল নি‌য়ে সোমবার শুরু হ‌চ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ ◈ টেস্ট খেল‌তে পা‌কিস্তান দল এখন ঢাকায় ◈ ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা ◈ ৮ মাস পর ঘুরে দাঁড়াল রপ্তানি, এপ্রিলে আয় ৩৩% বৃদ্ধি ◈ শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে ◈ রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ল ◈ ই-ট্রাফিক ব্যবস্থায় নতুন ধাপ: আইন ভাঙলে অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে পরোয়ানা ◈ মে‌সির ইন্টার মায়া‌মি ৩ গো‌লে এগি‌য়ে থে‌কেও হে‌রে গে‌লো ◈ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শিল্পে বিনিয়োগ ও সংস্কারে এডিবির নতুন উদ্যোগ ◈ শার্শায় তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল
আপডেট : ০৩ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা। টানা বৃষ্টি এবং মৌসুমি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খাড়া ঢালে বসবাসরত মানুষের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতির কারণে নগরী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যেই দীর্ঘদিন বসবাস করছেন।  

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, খুলশী, আকবরশাহ, ফয়’স লেক সংলগ্ন এলাকা এবং হাটহাজারীর বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ ও বন উজাড়ের কারণে পাহাড়ের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। বর্ষার পানিতে মাটি নরম হয়ে গেলে এই ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অতীতে চট্টগ্রামে একাধিক ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির নজির রয়েছে, যা নিয়ে প্রতিবছরই নতুন করে শঙ্কা দেখা দেয়।

একাধিক বাসিন্দা জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি জেনেও তারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন। বিকল্প বাসস্থানের অভাব থাকায় অনেকেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারছেন না।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা বা কার্যকর উদ্যোগের দেখা যায়নি। নগরির সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সৃত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের মূলত প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরাই দায়ী। তারাই পাহাড় দখল করে ভাড়াটিয়া বসায় এবং নিয়মিত তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে। পাহাড়ধসের জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটাকেও দায়ী করা হয়। মূলত নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়কাটা ও পাহাড়ধসের ঘটনা এবং একই সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসব প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বিষয়ে প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। বরঞ্চ প্রশাসনের ভেতরে একটি অসাধু চক্রের মদতে পাহাড়ে অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই চক্রকে নির্মূল করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। 

জানা গেছে, পরিবেশ অধিদফতরের হিসাবে চট্টগ্রামে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় আছে। এ পাহাড়গুলো বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে কেটে গড়ে তোলা হয়েছে বসতিসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে জনবসতি গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে। সবার আগে এই মহলকে চিহ্নিত করে তাদের উত্খাত করতে হবে। চট্টগ্রামে অনেক স্বল্প আয়ের লোক পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। তারাই এর শিকার হয়। ভূমিদস্যুদের লোভের কারণে প্রতি বছর প্রচুর নিরীহ মানুষ মারা যায়।

এদিকে দেশের চার বিভাগের ৩২ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে।

উল্লেখ: ২০০৭ সালের ১১ জুন ২৪ ঘণ্টায় ২৫৫ মি.মি বৃষ্টির পর চট্টগ্রাম নগরীতে স্মরণকালের ভয়াবহতম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। নগরীর কুসুমবাগ, কাইচ্যাঘোনা, চট্টগ্রাম সেনানিবাসসংলগ্ন লেবুবাগান, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাড়সহ সাতটি স্থানে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে মারা যায় শিশু, নারীবৃদ্ধসহ ১২৭ জন।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পর পাহাড়ের বাসিন্দারা আবার তাদের ঘরবাড়িতে ফিরে যান। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময়ে পাহাড় নিয়ে প্রশাসনের তত্পরতা তেমন একটা চোখে পড়ে না। এ কারণে প্রতি বছরই নগরীর কোথাও না কোথাও পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিবার পাহাড়ধসে মানবিক বিপর্যয়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ ও অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। 

২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড়ধসে চারটি পরিবারের ১২ জন মারা যায়। ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও   প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে মারা যায় একই পরিবারের পাঁচ জনসহ ১৭ জন। ২০১২ সালের ২৬ জুন নগরীর আকবর শাহ, উত্তর পাহাড়তলির বিশ্বকলোনি, মক্কীঘোনা ও জেলার বাঁশখালীতে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে মারা যায় ২৩ জন। ২০১৪ সালের ২০ মে আনোয়ারা উপজেলায় পাহাড় কাটার সময় মাটিচাপায় নিহত হয়েছেন এক শ্রমিক।

বর্ষা মৌসুমে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়