গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘর থেকে ছেলের ও রেললাইন থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার বড় ছেলে সোহান, হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ছোট ভাইকে হত্যার বিষয়টি টের পাওয়ায় নেশাগ্রস্ত বাবাকে রেললাইনে ফেলে রাখে সোহান। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু নিশ্চিতের পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সে। দুই ভাই একই মেয়েকে পছন্দ করা নিয়েই এই ঘটনা বলেও জানায় পুলিশ।
এর আগে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় রোববার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ বছর বয়সি সাকিব হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ। বাড়ির পাশেই রেললাইনে মেলে বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ।
বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বড় ছেলে সোহান হোসেনকে হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, অন্য কেউ নয় সোহানই হত্যা করেছে ছোট ভাই সাকিবকে। পরে নেশাগ্রস্ত বাবাকে ফেলে রেখে আসে বাড়ির পাশেই রেললাইনে। ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ যায় বাবা সোহেল হোসেনের।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, খালাতো বোনের সঙ্গে সোহানের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ছোট ভাই সাকিবের। এ নিয়ে ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন সোহান। হত্যার বিষয়টি টের পাওয়ায় পরে বাবাকেও দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর সোহানকে আদালতে নেয়া হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ জানায়, সোহেল হোসেন একসময় প্রবাসে ছিলেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন টঙ্গীর বনমালা এলাকায়।