নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। তিনজন করে মৃত্যু হয়েছে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে। এছাড়া একজন করে মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে।
খালিয়াজুরিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল মোতালেব, খালিয়াজুরি উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খাঁ ওরফে পালান ও সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেচরা ইউনিয়নের আকনাদিঘির চর গ্রামের মো. শুভ মণ্ডল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল মোতালেব সকালে খালিয়াজুরিতে জগন্নাথপুর ফেরিঘাটে নদে বড়শি ফেলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ করে ঝড়–বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খাঁ বাড়ির সামনের হাওরে ধান কাটছিলেন। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সিরাজগঞ্জের শুভ মণ্ডল কয়েক দিন ধরে ধান কিনতে খালিয়াজুরির কৃষ্ণপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। দুপুরে হাওরে ধান কেনার সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামিম বলেন, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
সুনামগঞ্জে সোমবার দুপুরে বজ্রপাতে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৮), সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালি গ্রামের কাদির হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪০) ও জামালগঞ্জ উপজেলার রুপাবলী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আবু সালেক (২০)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হচ্ছিল। এ সময় সদর উপজেলার দেখার হাওরে অন্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কৃষক জমির উদ্দিন। পরে তাঁকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে একই সময়ে বৈঠাখালি গ্রামের জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে সুরমা নদীর ঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাচ্ছিলেন। পথে বজ্রপাতে তিনি আহত হন। তাঁকেও সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার রুপাবলী গ্রামের আবু সালেক গ্রামের পাশে হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে আহত হলে তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শফিকুর রহমান বজ্রপাতে এই তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে আরও পাঁচজন কৃষকের মৃত্যু হয়।
এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া। বেলা দুইটার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন পেশায় কৃষক ওই ব্যক্তি।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মায়ের সঙ্গে খেতে বাদাম তুলছিলেন আরাফাত হোসেন (১৮)। এর মধ্যে শুরু হয় ঝড়বৃষ্টি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান আরাফাত। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, আরাফাত হোসেন নামের ওই তরুণ দুপুরে তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাদামখেতে বাদাম তুলছিলেন। মা ও ছেলে খেতের দুই পাশে ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে বাদাম তোলা অবস্থায় খেতেই আরাফাতের মৃত্যু হয়।