ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতায় রূপপুর পারমাণবিক
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়েছে। তবে এই মেগা প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব
তহবিল (জিওবি) থেকে খরচ আগের চেয়ে কমছে। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)
অনুযায়ী, সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে যাচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। শুরুতে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং কাজ শেষের সময় ছিল ২০২৫ সাল।
তবে দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। মোট খরচ বাড়লেও সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমেছে, যা জাতীয় বাজেটের জন্য স্বস্তিদায়ক।
মূলত মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নই ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ। প্রকল্প
শুরুর সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮০ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২২ টাকা ৪০ পয়সায়
দাঁড়িয়েছে। এতে বৈদেশিক ঋণের অংশটি টাকায় হিসাব করায় মোট অংক অনেক বেড়ে গেছে।
ব্যয় সমন্বয়ের জন্য সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও ৪৯টি খাতে খরচ কমানো
হয়েছে। বিশেষ করে জনবল, জমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক ফি থেকে উল্লেখযোগ্য
পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে ১০টি নতুন খাত এতে যুক্ত করা
হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসম্পূর্ণ কাজ এবং নতুন ৬ একর জমিতে
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধনীতে রাখা হয়েছে।
কোভিড মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মালামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায়
প্রকল্পের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,
সমজাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যান্য দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যয়ের সঙ্গে রূপপুরের
খরচ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে চার ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন চার ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে দুই ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে যৌক্তিক বলে মনে করছে কমিশন।
অন্যদিকে ভারতের কুদানকুলাম কেন্দ্রে খরচ কিছুটা কম হওয়ার কারণ হিসেবে দেশটির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নিজস্ব বিশেষজ্ঞ জনবল ও আগের অবকাঠামো থাকাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন
সংশ্লিষ্টরা।
নতুন সূচি অনুযায়ী, কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক দায়িত্ব হস্তান্তর (প্রভিশনাল টেকওভার) ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।