মো. আদনান হোসেন, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাই উপজেলার রামরাবন এলাকায় সংঘটিত একটি দস্যুতার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযো গমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে ‘ধর্ষণের গুজব’ ছড়ানো হলেও পুলিশের তদন্তে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রাম থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জিয়োস চন্দ্র মনি দাস, শ্রী চরণ মনি দাস, শুভন চন্দ্র মনি দাস ও দিপু চন্দ্র মনি দাস। তাঁরা সবাই রামরাবন গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে রামরাবন গ্রামে শান্তি মনি দাস নামের এক নারীর বাড়িতে দস্যুতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৪১)।
গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে দস্যুতার সময় লুট করা মোট ৮ হাজার ৬৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে জিয়োস চন্দ্র মনি দাসের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, শ্রী চরণ মনি দাসের কাছ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা, শুভন চন্দ্র মনি দাসের কাছ থেকে ২ হাজার ৩২০ টাকা এবং দিপু চন্দ্র মনি দাসের কাছ থেকে ২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতরা দস্যুতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া শ্রী চরণ মনি দাসের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “ভুক্তভোগীর করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।”
উল্লেখ্য: ঘটনার পর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে স্বামীকে বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি ধর্ষণ নয়; এটি দস্যুতার ঘটনা।