এম আর আমিন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (রাস্তা কার্পেটিংও মেরামতে নিজস্ব এসফল্ট প্ল্যান্টের মিক্সার ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখলেও অনেক কর্মকর্তারা তা মানছেন না। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়ে বাইরের মিক্সার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চসিকের তিনটি নিজস্ব এসফল্ট মিক্সার প্ল্যান্টের মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র একটি প্ল্যান্ট কার্যকর রয়েছে। এই একক প্ল্যান্টের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭০০ টন। তবে স্থানীয় কিছু অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা মিক্সার না নেওয়ায় প্ল্যান্টের চাহিদা কমে গেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নিয়মিত মিক্সার অর্ডার থাকলে চসিক বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় করতে পারত। কিন্তু স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তাদের কারণে এই সম্ভাব্য আয় হারাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনিয়ম ও অব্যবহারের কারণে শুধুমাত্র চসিকের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে না, বরং রাস্তাঘাটের মানও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত হচ্ছে।
চসিকের নিজস্ব প্ল্যান্টের মিক্সার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে গতবছরের ১৩ নভেম্বর আফিস আদেশ দিয়েছে প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিটুমিনাস কাপের্টিং রাস্তার উন্নয়ন/সংস্কার কাজের জন্য কর্পোরেশনের নিজস্ব এ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট দ্বারা মিক্সার ব্যবহার করার জন্য ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করা হলেও কিছু ঠিকাদার বাইরের প্ল্যান্ট ব্যবহার করে কার্পেটিং কাজ করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা সাপেক্ষে নিজস্ব প্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারবেন নতুবা সিটি কর্পোরেশনের প্ল্যান্ট হতে বিটুমিনাস কার্পেটিং ব্যবহার করতে হবে। কোন কারণে চসিকের প্ল্যান্ট বন্ধ থাকলে ঠিকাদার অন্য কোন প্ল্যান্ট ব্যবহার করলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ পূর্বক তা চসিকের পূর্বানুমতিপত্র নিতে হবে। চসিকের প্ল্যান্ট ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদারের বিল কপিতে যান্ত্রিক উপ-বিভাগের মতামত নিতে হবে।
নগরীতে চসিকের রক্ষণাবেক্ষণাধিন প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে এরমধ্যে ১১০০ কিলোমিটারের মতো কার্পেটিং, বাকীগুলো আরসিসি। সম্প্রতি আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে আরো কিছু নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ রাস্তা মেরামতে চসিকের নিজস্ব প্ল্যান্ট থেকে মিক্সার ব্যবহার করা হলে একদিকে যেমন আর বাড়বে অন্যদিকে গুনগত মানের কারণে কাজের স্থায়ীত্ব হবে বেশিদিন। ফলে সরকার বা চসিকের মোটা অংকের রাজস্ব ব্যয় থেকে রক্ষা পাবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শাহীনুল ইসলাম বলেন, চসিকের ৩ টা এসফল্ট প্ল্যান্ট আছে এরমধ্যে চালু আছে ১ টা, এটার সক্ষমতা দৈনিক ৭০০ টনের মতো। বাকি দুটো চালু হলে বছরে ১০ কোটি টাকা আয় হতে পারে। কিন্তু কতিপয় প্রকৌশলীর গাফিলতির ফলে একটার উৎপাদিত পণ্যই ডেলিভারী হচ্ছে না। তবু গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২ মাসে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আয় হয়েছে। শুধু একটা থেকেই বছরে ৫ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
কার্পেটিং কাজে বাইরের প্রতিষ্ঠানের মিক্সার ব্যবহারের কথা স্বীকার করে চসিকের অঞ্চল ৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (অ.দা.) মাহমুদ শাফকাত আমিন বলেন, ’চসিকের প্ল্যান্ট থেকে মিক্সার নেয়ার বাধ্যবাদকতা আছে আমরা ও নিচ্ছি তবে মাঝে মাঝে প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকে নেয়া হয় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’ নিজস্ব প্ল্যান্টের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাইরের মিক্সার নিয়ে চসিকের ক্ষতি করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতিতেই নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।”