জাফর ইকবাল, খুলনা: [২] খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন দোকানে নকল ও অবৈধ বিদেশি সিগারেট বিক্রি হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত। বিভিন্ন সময়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও প্রশাসন এসব সিগারেট জব্দ ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করলেও পরবর্তীতে সেসব দোকানগুলো অধিক মুনাফার আশায় বিক্রি করছে এসব নকল ও অবৈধ বিদেশী সিগারেট। এ সমস্ত দোকানগুলোতে অবৈধ বিদেশি সিগারেট পাইকারি এবং খুচরা বিক্রির মাধ্যমে খুলনা মহানগরীসহ খুলনা বিভাগের প্রত্যেকটি জেলা শহর গ্রাম গঞ্জে সয়লাব করে দেওয়া হচ্ছে।
[৩] বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় খুলনার সাত রাস্তার মোড়ে বেলালের সাঁচি পান দোকান, বড় বাজার হেলাতলার মোড়ে সাইফুল স্টোর ও নিজাম স্টোরে প্রতিদিন বিক্রি হয় কয়েক লক্ষ টাকার বিদেশী অবৈধ সিগারেট।
[৪] দেশের নৌ, স্থল ও আকাশ- এ তিনপথেই অন্য পণ্যের আড়ালে অবাধে আসছে বিদেশি সিগারেট। নিম্নমানের এসব সিগারেট বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে চলে আসছে এই দোকানগুলোতে এবং তারা পাইকারি বাজারে বিক্রির পাশাপাশি ফেসবুকে পেজ খুলেও বিক্রি করে থাকে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, ধূমপায়ীরা পড়ছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
[৫] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্যমতে, সবচেয়ে কমদামে সিগারেট পাওয়া যায় এমন ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭তম। বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ২৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল, মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ; কিন্তু গত তিন বছরে সেই চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। তাছাড়া এ সমস্ত সিগারেটের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা? তাও নির্ণয় করার কোন উপায় নাই। এ সমস্ত সিগারেটের মধ্যে রয়েছে কোরিয়ার ইজি ও মন্ড, চায়না অরিচ, মোর, ব্লাক ইত্যাদি।
[৬] জানা যায় ২০০৫/২০১৩ সিগারেট বাজারজাত আইনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই এ্যড সিগারেটের প্যাকেটে পর্যন্ত লেখা থাকে না। তাছাড়া ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানি প্রতিবছর সরকারকে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট দিয়ে থাকে। এ সমস্ত দোকানদারদের কাছে এই সিগারেট কোথা থেকে পেয়েছে জিজ্ঞেস করলে তারা সুস্পষ্ট কোন উত্তর দেয় না তারা বলে দৌলতপুরের গুরু কোম্পানি আমাদেরকে দিয়েছে।
[৭] এমনকি ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির বেনচন, গোল্ডলিফ, ও ডার্বি সিগারেটের নকল সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় ধরাও পড়েছে। কাস্টম হাউসের তথ্যমতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গত চার বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বৈধভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইজি ও মন্ড, পাইন ব্র্যান্ডের এক শলাকা সিগারেটও আমদানি হয়নি। অথচ সারাদেশের খুচরা বাজারে এসব ব্র্যান্ডে ছেয়ে গেছে।
[৮] কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি সিগারেট দুইভাবে আমদানি করার সুযোগ আছে; সাধারণ আমদানি ও বন্ডেড ওয়্যার হাউসের মাধ্যমে। সাধারণ আমদানির মাধ্যমে সিগারেট আনতে হলে উচ্চ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় নির্দিষ্ট পরিমাণে বন্ডেড ওয়্যার হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা যায়। বৈধভাবে সিগারেট আমদানিতে ৬০২ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়; কিন্তু এই শুল্ক-কর পরিশোধ করে বন্দর দিয়ে সিগারেট আমদানির নজির নেই।
[৯] সূত্রে জানা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের জাহাজ থেকে অবৈধ সিগারেট নামিয়ে দেশের বাজারে বাজারজাত করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। টেকনাফ, কুমিল্লা, মিরসরাইয়ের সীমান্তপথে দেশে ঢোকানো হচ্ছে অবৈধ, নিম্নমানের সিগারেট। জানা যায়, সাগরে ডলারের বিনিময়ে বিদেশি জাহাজ থেকে সিগারেট কিনে দেশের বাজারে বাজারজাত করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
[১০] এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন আমরা ইতিপূর্বে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেছি, অভিযোগ বা তথ্য পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
[১১] বর্তমানে এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সেই সাথে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে দেশের মানুষ তাই সমাজের সচেতন মহল এর দাবি প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে এই অবৈধ চোরা কারবারিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হোক। সম্পাদনা: এআর শাকিল
প্রতিনিধি/এআরএস