নিজস্ব প্রতিবেদক : পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উৎস দেশকে ন্যয্য দর দিতে বাধ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭ দেশের ব্র্যান্ড-ক্রেতারা। কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স ডাইরেক্টিভ (সিএসডিডিডি) আইন পরিপালন ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য দেশের জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক ঘোষণায় এ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিজেদের এই জবাবদিহীতার চেয়ে বাংলাদেশের মত দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড-ক্রেতারা উল্টো খবরদারিই বেশি করে থাকেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানায় হিজড়া শ্রমিকদের জন্য আলাদা বাথরুম আছে কিনা, এ রকম ছোট-বড় অনেক বিষয়ে বেশি তৎপর তারা। অথচ পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দিতেও হিমশিম খেতে হয়।
রোববার তৈরি পোশাক খাতে মানবাধিকার ও ইইউ ডিউ ডিলিজেন্স বিষয়ক এক কর্মশালায় এই পর্যবেক্ষণ দেন বিশেষজ্ঞরা। গত শনিবার রাজধানীর পল্টনে হোটেল এশিয়ায় এই কর্মশালা শুরু হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ-বিলস এবং নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন মন্ডিয়াল এফএনভি এ কর্মশালার আয়োজন করে। সমাপনী দিনে গতকাল অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, বিলসের পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন, মনডিয়াল এফএনভির পরামর্শক মো. শাহিনুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আকন্দ, বিলসের উপ-পরিচালক মো. ইউসুফ আল-মামুন প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, গত বছর এপ্রিলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স ডাইরেক্টিভ (সিএসডিডিডি) পাস করে। যা ২০২৯ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব সংসদে পাস হওয়ার পর কঠোরভাবে পরিপালন করা হবে। এই আইন কার্যকর হলে ইইউর ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও পণ্যের উৎপাদন উৎসের বিষয়ে জবাবদিহীতার আওতায় আসবেন। তখন পরিবেশ ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন থাকা উৎস থেকে পণ্য আমাদানি করবে না তারা। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শিল্প খাতে পরিবেশসম্মত উৎপাদন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। নাহলে রপ্তানি ব্যাপকহারে কমে যেতে পারে।
বক্তাদের মতে, ইইউর জোটগত আইন, জার্মানির জাতীয় আইন অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ চেইনে আমদানি রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর ব্যাতিক্রম হলে জোটের দেশগুলোতে পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা। ক্রেতারা পোশাকের ন্যায্য দর না দিলে কারখানা পর্যায়ে শ্রমিকদের কোন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় ন্যয্য দর দিতে ক্রেতারা যাতে বাধ্য হন, সে বিষয়ে সব পক্ষকে সচেতন হতে হবে। কর্মশালায় শ্রম পরিবেশ উন্নয়ন, মানবাধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিলস্রে কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।