শিরোনাম
◈ বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সমঝোতা কি ভেস্তে যাবে ◈ জিম্বাবুয়ে গে‌লো বাংলা‌দেশ ক্রিকেট দল  ◈ তারেকের মালয়েশিয়া সফরের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য ◈ আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারে মার্কিন আদালতের আপত্তি ◈ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ◈ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি, চলতি বছরই ফিরব: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেশে ফেরার বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা ◈ ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি ◈ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : হাবিবুর রশীদ ◈ ২০১৬ সালে ভারতের নোট বাতিলের উদ্যোগের মতোই বাংলাদেশেও ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে!

প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬, ০৯:০৪ রাত
আপডেট : ২৮ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কর্ড লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার, ৯০ কিমি কমবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ

নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত বহুলপ্রতীক্ষিত রেল কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলপথে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার দূরত্ব ৮০-৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় কমে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসবে।

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এই রেল করিডোরে আখাউড়া, ভৈরব ও টঙ্গী হয়ে ট্রেনগুলোকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যদিও সড়কপথে এই দূরত্ব ২৪৮ কিলোমিটার। নতুন এই লাইন চালু হলে পণ্যবাহী ট্রেনগুলোর প্রতি ট্রিপে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় বাঁচবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় এ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি সম্ভাব্য পথরেখার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রুট প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত রেলপথটি চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেনগুলোকে বিদ্যমান সরাসরি প্রস্তাবিত ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) সঙ্গে যুক্ত করবে। সরকার বলছে, এতে দেশের অর্থনীতি ও লজিস্টিক খাত আরও শক্তিশালী হবে।

ট্রেনের গতিবৃদ্ধি ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার

রেলওয়ের কর্মকর্তা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে টঙ্গী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩৪টি ক্রসিংয়ে যে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়, তা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। কারণ এসব ক্রসিংয়ে ট্রেন ঘন্টায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলে; সাধারণত গতি থাকার কথা ৮০ কিলোমিটার। 

প্রকল্প পরিচালক পরিচালক মো. আবিদুর রহমান টিবিএসকে বলেন, বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করে প্রকল্প আকারে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। 

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাকাল পাঁচ-ছয় ঘণ্টা থেকে কমে তিন-সাড়ে তিন ঘন্টায় নেমে আসবে। বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম পথ পাড়ি দিতে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে; এই সময় চার থেকে পাঁচ ঘন্টা কমে আসবে। 

যাতায়াতের সময় কমে এলে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিদ্যমান লোকোমোটিভ ও রোলিং স্টক দিয়েই আরও বেশি ট্রেন পরিচালনা করতে পারবে।

পাঁচ দশকের পুরনো প্রস্তাব

১৯৭০-এর দশক থেকে কর্ড লাইন বারবার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু তা কখনও আলোর মুখ দেখেনি। সড়কপথের দূরত্ব কমলেও কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী ও টঙ্গী হয়ে যাওয়া ব্রিটিশ আমলের পুরোনো রেলপথ এখনো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

প্রকল্পটি এখন সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশা প্রণয়নের পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের লক্ষ্য আগামী বছরের জুনের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০২০ সালে নেওয়া প্রকল্পের অধীনে কর্ড লাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। চারটি বিকল্প পথরেখার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লার লালমাই পর্যন্ত একটি পথরেখা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।  তবে বাজেটে প্রকল্পটির ব্যয়, অর্থায়নের উৎস বা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

চাপে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা

বাংলাদেশ রেলওয়ে যখন লোকোমোটিভ ও রোলিং স্টকের তীব্র সংকটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই এই প্রস্তাবিত কর্ড লাইন প্রকল্পটি সামনে এল।

গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পণ্য পরিবহন বা মালামাল ভাড়া খাতে রেলওয়ের আয় হয়েছিল ১২২.৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ১১১.২৭ কোটি টাকায় নেমেছে। প্রতিদিন ১২-১৫টি পণ্যবাহী ট্রেনের চাহিদা থাকলেও চলাচল করে মাত্র দুই থেকে তিনটি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর যুক্ত হলে পণ্য পরিবহনের চাপ আরও বাড়বে। তাই এই কর্ড লাইন প্রকল্পটির গুরুত্ব বাড়ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, ট্রেনে যাতায়াতের সময় কমলে যাত্রী আরো বাড়বে; সড়কের ওপর চাপ কমবে। সড়কপথে পণ্য পরিবহনও বাড়ানো যাবে। আর কর্ড লাইনে ট্রেনগুলো চলাচল করলে পুরনো লাইন দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো একেবারে গাজীপুরে নির্মাণাধীন ধীরাশ্রম আইসিডিতে পৌঁছে যাবে। তখন বেশি ট্রেন চালানো যাবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম পরিচালক (অপারেশন) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সময় সাশ্রয় হলে সংকটের মধ্যে একই ইঞ্জিন ও রেক যেখানে দুবার চলাচল করে, সেখানে তা চারবারও চলাচল করতে পারবে। অর্থাৎ একই সম্পদ দিয়ে বেশি সংখ্যক ট্রেন চালানো যাবে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়