রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি চালু হওয়া এআই ক্যামেরা নজরদারি ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট ঢেকে চলাচল করেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার পর ওই যুবককে শনাক্ত করে আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, “ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে লাভলু হক (৩৮) নামে লালবাগের ওই যুবককে শনাক্ত করা হয়।
“পরে মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে তার এক মাসের জেল ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
গত ১৯ মে একটি মোটরসাইকেলকে নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে কারওয়ানবাজার ক্রসিং পার হতে দেখা যায়। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা আলোচনার জন্ম হয়।
পুলিশ বলছে, লাভলু হকের মোটরসাইকেলটির নম্বর ছিল ল-১৬৩৬৫৯। ঘটনার দিন তিনি শেষের তিনটি ডিজিট কাগজ দিয়ে ঢেকে চলাচল করছিলেন।
অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর বলেন, “২১ মে বিষয়টি ডিএমপির নজরে আসার পর পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল ছড়িয়ে পড়লে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।
“ছবিতে চালকের মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করা সহজ ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। পরে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা হয়। পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।
“সিটিটিসির সহায়তায় বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোটরসাইকেলের ধরন ও নম্বরপ্লেট মিলিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ওই বাইকারকে শনাক্ত করা হয়।”
পুলিশ বলছে, নম্বপ্লেট ঢেকে চলাচলকারী লাভলু হক তেজগাঁও এলাকাতে কাজ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ঘটনার দিন তার কাছে হেলমেট ছিল না। রাস্তার এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লেও যেন কেউ মোটরসাইকেল শনাক্ত না করতে পারে সেজন্য ‘এক বন্ধুর প্ররোচনায়’ নম্বরপ্লেটের তিনটি সংখ্যা ঢেকে দিয়েছিলেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, “রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নগরবাসীর সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এমনকি ঈদের ছুটিতে যানবাহন কম থাকলেও অনেককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে দেখা গেছে।
“আমরা উন্নত বিশ্বের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু কেউ যদি প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ডিএমপির উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, আমাদের মূল লক্ষ্য মানুষকে সচেতন করা।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম