হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তানজানিয়ার নাগরিকের কাছ থেকে উদ্ধার ১৩ কোটি টাকার হেরোইনের গন্তব্য ছিল ভিয়েতনাম। গ্রেপ্তারকৃত আবুল নাসির বাকারি জাহারকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান সমকালকে বলেন, মাদকের চালানটি নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভারতে ট্রানজিট হয়ে ভিয়েতনাম পৌছার কথা ছিল গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির। রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্য গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হেরোইন পাচারের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না সে বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।
২০ মে বিমানবন্দরে আবুল নাসিরের কাছ থেকে (পাকস্থলীতে ছিল) কোকেনের ৫১টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২২ মে বিমানবন্দর থানায় তাকে সোর্পদ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এস আই আলমগীর হোসেন জানান, বিমানবন্দর কাষ্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আবুল নাসিরকে আটক করে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের এই সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকস্থলীতে কোকেন বহন করছেন। ৫১টি ক্যাপসুলে থাকা কোকেনের মোট ওজন ছিল ৮৬৯ গ্রাম। এর আনুমানিক দাম ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এ ঘটনায় কাষ্টমসের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান লিংকন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে ২৭ মে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।