রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শনিবার (১ আগস্ট) বোমাসদৃশ পরিত্যক্ত বস্তু উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের তল্লাশিতে দুটি স্থানেই কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
মিরপুর-১০ স্টেশনে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। যাত্রীদের দ্রুত স্টেশন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ট্রেনগুলো মিরপুর-১০ স্টেশনে না থেমে চলাচল করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে স্ক্যান করে। স্ক্যানে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর ইমেজ দেখা গেলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে সেটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পরে ব্যাগ খুলে দেখা যায়, ভেতরে ছিল একটি জর্দার কৌটা ও পান। সেখানে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করার পর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে, অর্থাৎ প্রায় ৫২ মিনিট পর মিরপুর-১০ স্টেশনের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয় এবং মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে একই দিনে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেও একটি পরিত্যক্ত বস্তুকে ঘিরে বোমা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তুটি পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় সেখানেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, দুটি ঘটনাতেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং কোথাও বিস্ফোরক মেলেনি।
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মিরপুর-১০ স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে ডিএমপি রাজধানীবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা পরিস্থিতি চোখে পড়লে গুজব না ছড়িয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।