রাজধানীর বাড্ডার বড় বেরাইদের পশ্চিম ঋষিপাড়া এলাকার বাসা থেকে হাবিবুল্লাহ হাবিব (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির বাবা মো. শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমিন সমকালকে বলেন, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার শাহীন কখনও বাবুর্চি, কখনও রিকশাচালক হিসেবে কাজ করতেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বেকার। স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতেন। শিল্পী গৃহকর্মী হিসেবে বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন।
ওসি আরও বলেন, শাহীনের স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলেন। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও স্বামীর কোনো সাড়া পাননি। পরে স্থানীয়রাও সেখানে জড়ো হয়ে বারবার চাপ দিলে শাহীন দরজা খোলেন। সবাই ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শাহীনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মধ্যরাতে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় শিল্পীর খালা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাহীনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শাহীন অনেক দিন ধরে মাদকাসক্ত। সেইসঙ্গে বেকার অবস্থায় রয়েছেন। এ নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হতো। সর্বশেষ তিনি অসুস্থ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় যেতে চাচ্ছিলেন। এজন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সন্তানকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির মা শিল্পী অসুস্থ, তার মধ্যে সন্তান হারানোর শোকে পাগলপ্রায়। এ অবস্থায় তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারেনি পুলিশ। তার সঙ্গে কথা বললে হত্যার কারণ সম্পর্কে আরও নিঃসন্দেহ হওয়া যাবে। এই দম্পতির আরেকটি ছেলে রয়েছে।