মনজুর এ আজিজ : ১৫ মে তারিখের মধ্যে রাজধানীর সকল পেট্রোল পাম্প ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে ১৮টি পাম্পে ফুয়েল পাস চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রশ্নের জবাবে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপসের আওতায় থাকা পাম্পে তেল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাসের প্রথম পক্ষের মধ্যে (১৫ তারিখ) চালু হলে নগরীতে ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়বে। তেলের লম্বা লাইন এখন অনেকটা কমে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় আর দুর্ভোগ থাকবে না বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ফুয়েল পাস’ এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে। আমরা দেখেছি একজন অ্যাপস ব্যবহারকারি টানা তিনদিন ১০ লিটার করে তেল নিয়েছেন। আমরা তাকে ফোন করে জানতে চাচ্ছি তিনি কোথায় গেলেন এতো লম্বা পথ। কেনো তাকে পরের দিনেই তেল নিতে হলো। রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশেও পর্যায়ক্রমে ফুয়েল পাস চালু করতে চায় বিপিসি। তখন ফুয়েল পাস না থাকলে আর কেউ জ্বালানি কিনতে পারবেন না।
স্মার্টফোন অ্যাপস ডাউনলোডের পাশাপাশি স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। কিউআর কোডটি বিভিন্ন ফরমেটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে পারবেন। ফিলিং স্টেশনের মালিকগণ ডিজিটাল মাধ্যমে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিয়ে ফুয়েল বিতরণ করতে পারবেন। কিআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন চালক ফুয়েল গ্রহণ করতে পারবেন এবং একইসঙ্গে নিজের জন্য বরাদ্দ দেখতে পারবেন।
জ্বালানি তেল নিয়ে নজীর বিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ তেল সরবরাহে রেশনিং করা হয়। ১৫ মার্চ রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেখা যাচ্ছে না। সরকার বাধ্য হয়ে পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু মাঠে যেনো হাহাকার থামছেই না। অনেক পাম্পেই লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। যানবাহনের পাশাপাশি এখন বেশি বিপাকে রয়েছেন বাসা-অফিসে জেনারেটর ও সেচ পাম্প ব্যবহারকারিরা।