শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ০৪:২২ সকাল
আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ১০:২০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মায়ের সঙ্গে থাকতে ভয় পায় জাপানি দুই শিশু: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক : ইমরান শরীফ ও এরিকো নাকানো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘বিশেষ করে এরিকো নাকানোকে কিছুটা আগ্রাসী বলে মনে হয়। অপরপক্ষে ইমরান শরীফকে অনেকটাই নমনীয় মনে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের একটা গভীর সংকট বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।’ আজকেরপত্রিকা

জাপানি দুই শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে ৩৩ পৃষ্ঠার রায়ে হাইকোর্ট এসব পর্যবেক্ষণ দেন। গত ২১ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার (১৬ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্ট বলেন, ‘দুই মেয়ে জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা দিনের একটা বড় অংশ তাদের বাবার সঙ্গে কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বাবার কক্ষেই তারা অনলাইনে স্কুল ও বাংলা শেখার ক্লাসে অংশগ্রহণ করে। মায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনো অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। মাঝে মাঝে তারা মায়ের সঙ্গে টেলিভিশন দেখেছে, তবে তাদের তেমন প্রাণবন্ত মনে হয়নি।’

সম্পর্কের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, ‘লাইলা মায়ের সঙ্গে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও জেসমিন মোটেও মায়ের সঙ্গ উপভোগ করে না এবং মায়ের আচরণ তার ভালো লাগে না মর্মে সে আদালতকে জানিয়েছে। জেসমিন জানায়, মা তাদের বাবার সম্পর্কে সব সময় নেতিবাচক কথা বলে, যা তাদের মোটেই ভালো লাগে না। এই বিষয়ে বড় মেয়ে জেসমিন পাঁচটি চিঠিও আদালতের কাছে হস্তান্তর করেছে।’

আদালত বলেন, ‘পর্যবেক্ষণে এরিকো নাকানোর মেজাজ, ধৈর্য এবং মেয়েদের পালস্ বুঝে চলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে মর্মে পরিলক্ষিত হয়। স্নেহ মমতার পরিবর্তে মেয়ে দুটিকে কিছুটা রোবটিক জীবনে অভ্যস্ত করার একটা প্রচেষ্টা এরিকো নাকানোর মধ্যে বিদ্যমান। যা মেয়ে দুটিকে তাঁর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে হয়। অপরপক্ষে, বাবা ইমরান শরীফের প্রতি মেয়েরা অনেকাংশেই নির্ভরশীল। বাবাই তাদের বন্ধু, সহযোগী ও সকল আস্থার জায়গা দখল করে আছে। মেয়েদের লালন-পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বাবা ইমরান শরীফ তাদের মা এরিকো নাকানোর চেয়ে অনেক বেশি যত্নশীল বলে মনে হয়েছে।’

শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে রায়ে বলা হয়, ‘বাবা বাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় তাদের বেশ বিমর্ষ মনে হয়, যার রেশ দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিদ্যমান থাকে। এমনকি বাবা বাসা থেকে চলে গেলে তারা ঘরের দরজা আটকিয়ে বসে থাকে এবং একধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাদের মানসিক বিকাশের অন্তরায় বলে প্রতীয়মান হয়।’

মেয়েদের জানানো কথার প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, ‘জেসমিন বলেছে, আমার মার সঙ্গে থাকতে ভয় লাগে। তাই আমি জাপান যাব না। আমি ঢাকাতে থাকব। কেননা মার সঙ্গে একা থাকতে পারব না, বাবা ছাড়া। মা চায় না আমি আপনাকে কিছু বলি। আমাদের সাহায্য করুন।’

এর আগে জাপানি দুই শিশু বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে গত ২১ নভেম্বর রায় দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। তবে অতিরিক্ত সময় যাওয়া-আসা করলে তা মাকেই বহন করতে হবে।

রায়ে আদালত আরও বলেন, ইমরান শরীফ মাসে কমপক্ষে দুবার ছুটির দিন সন্তানদের সঙ্গে তাদের মাকে ভিডিওকলে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন। আর বাংলাদেশে আসা-যাওয়া এবং গত কয়েক মাস থাকার খরচ বাবদ ইমরান শরীফ এরিকো নাকানোকে ১০ লাখ টাকা দেবেন। আদালত বলেছেন, রিটটি চলমান থাকবে এবং যে কোনো পক্ষ চাইলে আদালতে আসতে পারবেন।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মা এরিকো নাকানো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়