রিয়েল এস্টেট ও আবাসন খাতকে গতিশীল করতে আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ নেওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আবাসন ঋণের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে রিহ্যাবের একাধিক চিঠি, তিন থেকে চার দফা বৈঠক এবং নিয়মিত যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ঋণসীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থবির আবাসন খাত সচল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আবাসন ঋণের সীমা ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “আগে আবাসন ঋণের সীমা তুলনামূলক কম থাকায় অনেক নাগরিকের জন্য ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের মানুষ সহজে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন।”
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হারের ভিত্তিতে আবাসন ঋণ দেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে, তারা সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে। খেলাপি ঋণের হার ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ঋণসীমা হবে ৩ কোটি টাকা এবং ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ থাকলে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে।
তবে আবাসন ঋণে ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতার আয় ও ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবাসন ঋণের সীমা বাড়ানোর ফলে রিয়েল এস্টেট খাতে চাহিদা বাড়বে। ব্যক্তি ও পরিবারগুলো তুলনামূলক উচ্চমূল্যের বা ভালো লোকেশনের ফ্ল্যাট কিনতে উৎসাহিত হবে। এতে ডেভেলপাররা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবেন, যা পুরো আবাসন খাতকে গতিশীল করবে।
একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও বড় প্রকল্পে ঋণপ্রবাহ বাড়লে নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিকভাবে, রিহ্যাবের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত আবাসন খাতে স্বস্তি এনে দিয়েছে। ক্রেতা ও ডেভেলপার—উভয়ের জন্যই এটি সহায়ক হবে এবং গৃহায়ন খাতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।