প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] টানা বর্ষণে শীতকালীন রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন দেবিদ্বারে কৃষকরা

শাহিদুল ইসলাম: [২] বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেবিদ্বার এলাকায় গত চারদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। শাক-সব্জী আবাদী কৃষকদের সম্ভাবনাময়ি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। অধিকাংস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, বাজার ও বিপণী কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতার সমাবেশও কমেগেছে। উপজেলা সদরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুল ও যেগুলো আছে সেগুলোতে জমে থাকা ময়লা আবর্জণাগুলো পরিস্কার না করায় তিন দিনের টানা বর্ষণের ফলে উপজেলা সদরের সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জরুরী প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষগুলোর ড্রেনের বিসাক্ত ময়লা আবর্জনার পানি পায়ে লাগার পর চুলকানীসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

[৩] সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আগাম শীতকালীন সব্জী, মাছের ঘের, পুকুর ও রবি ফসলের চাষীরা। অধিকাংশ ক্ষেতের সব ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে। ফসলের এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না অনেক কৃষক। এছাড়া এবার শাক-সব্জীর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকরাও বুকে বেঁধেছিলো রঙ্গীন স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ এই বৃষ্টিতে কৃষকের বুক ভরা স্বপ্ন এক নিমেশেই ভঙ্গ হয়ে গেছে। এখন শুধুই রয়েছে হতাশা।

[৪] অসময়ে অতি বর্ষণের ফলে চলতি শীত মওসুমের ফসলের কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে জানতে চাইলে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ফসলের কি পরিমান ক্ষতি হবে তা নিরুপনেরআগে বলা যাবেনা, তবে এবার রবি ফসল, শাকসব্জী ও বোর বীজতলাসহ প্রায় ২ হাজার ৭৯৩ হেক্টর ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

[৫] উপজেলা তথ্যানুযায়ি চলতি মওসুমে রবি ফসল: বোর বীজতলা- ৪৪৫ হেক্টরসহ গোল আলু চাষ- ১ হাজার ২৫ হেক্টর, কাঁচা মরিচ- ৬৫ হেক্টর, ধনিয়া পাতা- ৮৫ হেক্টর, পেঁয়াজ- ২০ হেক্টর, রসুন- ১০ হেক্টর, মিষ্টি আলু- ১৫ হেক্টর এবং শাকশব্জী: ফুল কপি- ১৫০ হেক্টর, বাঁধা কপি- ১৮৫ হেক্টর, বেগুন- ৮০ হেক্টর, টমেটো- ৯৫ হেক্টর, মুলা- ৬৬ হেক্টর, লাল শাক- ৮২ হেক্টর, ডাটা- ৬২ হেক্টর, পালং শাক- ২৬ হেক্টর, শষা- ৫০ হেক্টর, মিষ্টি কোমড়া- ৯৮ হেক্টর, করলা- ৪০ হেক্টর, ঢেরস- ৫০ হেক্টরসহ ২,৭৯৩ হেক্টও জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক জায়গার ফসলের মাঠে পানিতে তলিয়ে থই থই করছে।

[৬] দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রৌফ জানান, বঙ্গপসাগরে সৃষ্ট নিম্ন চাপের ফলে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমে আবাদী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে তা এ মূহুর্তে বলা যাবে না। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, তারা মাঠে কাজ করছেন, ৭ ডিসেম্বর রিপোর্ট করবেন। যদি ৭ ডিসেম্বরের পরও বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতির পরিমান বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কৃষকর ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হন তাহলে সরকার থেকে ভর্তুকীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও মাথায় রেখেছি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত