প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কখনোই নিরাশ হওয়া যাবে না

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান: আল্লাহ রব্বুল আলামিন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। সেই সাথে তার জীবনকে আন্দময় করার জন্য যাবতীয় নাজ-নেয়ামত দিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে সুখের পাশাপাশি মানুষের জন্য দুঃখও রেখেছেন। যাতে জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকে। জীবন বৈচিত্রময় হয়ে উঠে। জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা মানুষ উপলব্ধি করতে পারে। ছোট-বড় সব ধরণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করে। কখনো সে যেন ইমানহারা না হয়। তাই সুখ-দুঃখ মানবজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েই জীবনযাপন করতে হয়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন,‘আমি মানুষকে এক কঠোর পরিশ্রমের মাঝে সৃষ্টি করেছি।’(সূরা আল বালাদ, আয়াত- ৪)। অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে,‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ভয়ভীতি, ক্ষুধার কষ্ট, জানমাল ও ফসলের ক্ষতি সাধন করে। যারা ধৈর্যের সাথে এর মোকাবেলা করে, তুমি ঐ সমস্ত ধৈর্যশীলদের জান্নাতের সুসংবাদ দান করো। যখন তাদের উপর বিপদ-আপদ আসে তখন যেন তারা বলে, অবশ্যই আমরা আল্লাহর তায়ালার জন্য। একদিন অবশ্যই তার কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত : ১৫৫-৫৬)।

তাই বিপদে-আপদে কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া যাবে না। বরং ইমানের বলে বলীয়ান হয়ে আল্লাহর প্রতি আরো বেশি তাওয়াক্কুল করতে হবে। যখনি কোনো বিপদ আসবে তার কাছে সাহায্য চাইতে হবে। নিজেও সেই বিপদকে কাটিয়ে উঠার জন্য চেষ্টা করতে হবে। সেই চেষ্টাও যেন দ্বীনের পথে থেকে হয়। তাগুতের পথে নয়। কারণ মুমিন-মুসলমানের জন্য দুনিয়ার দুঃখকষ্ট ও আনন্দ-বিনোদন সব কিছুতেই কল্যাণ, যদি সে আল্লাহর দেখানো পথ ও মতের উপর অটল থেকে দুনিয়ার জিন্দেগি পরিচালনা করে। হাদিস শরিফে এসেছে,‘ইমানদারের জীবন বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। তার সবকিছুতেই কল্যাণ। ইমানদার ছাড়া আর কেউ এমন হয় না, যে সুখ পেলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। যা তার জন্য কল্যাণকর। আবার দুঃখ এলে সে ধৈর্য ধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর- ২৯৯৯)।

মানুষের জীবন বড়ই আজব। কেউ জানে না তার হায়াত কখন ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু মানুষকে মরতে হবে একথা সবাই জানে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে তা-ও কারো আজানা হয়। তবুও মানুষ কখনো কখনো দুনিয়ার লালসায় সে কথা ভুলে যায়। সামান্য স্বার্থের জন্য নিজেকে বিক্রি করে দেয়। ক্রমাগত তার এই অধঃপতন তাকে এক সময় নামসর্বস্ব মানুষে পরিণত করে। সে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাতারে নিজেকে শামিল করে নেয়। এ কারণে আল্লাহতায়ালা বলেছেন,‘নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে ঐ সমস্ত মানুষ ব্যতীত যারা ইমান এনছে ও নেক কাজ করেছে, এক অপরকে ভালো কাজ করার তাগিদ দিয়েছে আর একে অপরকে ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দিয়েছে।’ (সূরা আল আসর, আয়াত : ২-৩)।

তাই সবসময় মৃত্যকে স্মরণে রেখে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে নিজেকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। তাহলে জীবনে সাফল্য অনিবার্য। আর এই সফলতাই মানুষের দুনিয়ার জীবনকেও সুন্দর করে তুলবে। সে নিজে কখনো অন্যায় কাজ করবে না। আর কাউকে অন্যায় কাজ করতে সাহায্য করবে না। সে নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করবে যে-কোনো সময় আল্লাহর তরফ থেকে ডাক আসলে সে যেন একজন জান্নাতী মানুষ হিসেবে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারে।

কিছু মানুষ এমন আছে যাদের বিপদে পড়লে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। অন্য সময় আল্লাহকে ভুলে যায়। আবার এমনও কিছু মানুষ আছে যারা শয়তানকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে। বিপদে-আপদে ও সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করে মানুষের শরণাপন্ন হয়। আর মানুষকেই তার মুক্তিদাতা বানিয়ে নেয়। অথচ যে ক্ষমতা মানুষের নেই। মানুষের পারে কেবল আল্লাহর প্রেরিত সাহায্যকারী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। তাই এই সমস্ত চরিত্রের অধিকারী মানুষদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন,‘মানুষকে যখন কোনো দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে-বসে দাঁড়িয়ে সর্ববস্থায় আমাকে ডাকে। আমি যখন তার দুঃখকষ্ট দূর করে দিই তখন সে এমনিভাবে চলতে শুরু করে, তাকে যে একসময় দুঃখকষ্ট স্পর্শ করেছিল আর তা দূর করার জন্য সে আমাকে কখনোই ডাকেনি; এভাবে যারা সীমালঙ্ঘন করে তাদের জন্য তাদের যাবতীয় কাজকর্মকে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত – ১২)।

মানুষ বিপদে পড়লে আল্লাহকে ডাকবে। তার সাহায্য চাইবে এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, একবার যে ভুলটি আমি করলাম- হোক সেটি শয়তানের প্ররোচনায় বা নফসের তাগিদে সেই ভুলটি আমি আর দ্বিতীয়বার করবো না। বাকি জীবনটা আমি এভাবে পাপকে বিদায় জানিয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেবো। এ ধরণের খালিস তাওবা আল্লাহর খুব পছন্দ। এরকম বান্দাকে আল্লাহ ক্ষমা না করে পারেন না। আর আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন সে অবশ্যই সৌভাগ্যবান। যার ঠিকানা অবশ্যই জান্নাত। তাই জীবনে আর ভুল নয়। নিজের কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে বাকি জীবন দ্বীন-ইসলামের পথে ব্যয় করবো। যদি এ পথে মরণও আসে হাসিমুখে তা মেনে নেবো। এটাই ইমানের প্রকৃত দাবি।

 

সর্বাধিক পঠিত