প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন: যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিশ্চয়ই মা ও কন্যাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভ‚তপূর্ব ভ‚মিকা রাখবে

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন
নারীর জীবনে খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা ‘মাসিক’। কৈশোরে মাসিক শুরু মানেই সুস্থতা আর সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা। অথচ এই স্বাভাবিক ঘটনাটিকে ঘিরে সমাজে ট্যাবুর কোনো শেষ নেই। পরিবারে শুরুতেই বোঝানো হতো, এই ঘটনাটি ভীষণ লজ্জা আর গোপন রাখার যার কোনো মানে নেই। বরং এই লজ্জাকে ঢাকতে গিয়ে মাসিকের ওই সময়টাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধি না জানার কারণে অনেক নারীকে অসুস্থ হয়ে মাতৃত্বহীনতা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে। অনেক শিক্ষিত মানুষকেও বলতে শুনেছি ‘প্রয়োজনে আমার স্ত্রী মরে যাবে তবুও ব্রেস্ট এবং সন্তান জন্মদানের জটিলতায় কোনো পুরুষ ডাক্তার নয়।’ মনে মনে ভীষণ অবাক হয়েছি। ডাক্তারের দায়িত্ব কেবলই চিকিৎসা করা সেখানে কে ডাক্তার কী আসে যায়। বড় বড় স্ত্রী রোগের চেম্বারে পুরুষ ডাক্তারদের সহযোগী হিসেবে নারী ডাক্তার, নার্স এবং আয়া থাকে, অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই। গুটিকয়েক ডাক্তার যারা খারাপ তাঁরা যেকোনো পেশায় গেলে খারাপই হতেন। বেশ কয়েক বছর আগে বিলবোর্ডে অ্যাড দেখেছিলাম বাবা তাঁর কিশোরী কন্যার হাতে সেনেটারি প্যাড তুলে দিচ্ছে। ভীষণ আশা জাগানিয়া মনে হয়েছিলো। বাবা তাঁর কন্যাকে, ভাই তাঁর বোনকে, পুত্র তাঁর মা’কে প্যাড কিনে দেবে এটাতো ভীষণ স্বাভাবিক একটি ঘটনা এখানে লজ্জার কিছু নেই।

নারীর মাসিকের জন্য এখন প্যাড ছাড়াও মিন্সত্রæয়াল কাপ, টেম্পুনসহ নানাবিধ প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব পৌঁছায়নি। অনেকে লজ্জা কিংবা অর্থ সাশ্রয়ী বলে পুরনো কাপড় ব্যবহার করছেন যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আশা জাগানিয়া কথা হচ্ছে আমাদের দেশের আরেক মেধাবী কন্যা পাটের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে প্যাড বানিয়ে ভীষণ প্রশংসিত হচ্ছেন। তাঁকে অভিনন্দন না জানিয়ে পারা যাচ্ছে না। অভিবাদন বিজ্ঞানী ফারহানা সুলতানা ও ড. মুবারক আহমেদ খান। আপনাদের যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিশ্চয়ই মা ও কন্যাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভ‚তপূর্ব ভ‚মিকা রাখবে। আমেরিকান সোসাইটি ফর ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন (এএসটিএমএইচ) আয়োজিত ৪র্থ ইনোভেশন পিচ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড পুরস্কার জিতেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সহকারী বিজ্ঞানী ফারহানা সুলতানা। ফারহানা পাটের সেলুলোজভিত্তিক স্যানিটারি প্যাড তৈরির যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর এই পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলাদেশের নারী বিজ্ঞানীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিলো মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসম্মত বিশ্ব সম্প্রদায়। ডা. মোবারক আহমেদ খানের (বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা) সঙ্গে সমন্বয় করে ফারহানা সুলতানা ম্যানুয়ালি পাটের সেলুলোজভিত্তিক ডিসপোজেবল প্যাড তৈরি করে এর পরীক্ষা চালিয়েছেন। Khujesta Nur-e naharin-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত