প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীতে ভয়ঙ্কর মাদক অক্সি-মরফোনসহ গ্রেপ্তার ২

সুজন কৈরী: [২] রাজধানীর কোতয়ালী ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে ১৩ হাজার পিস অক্সি-মরফোনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম- আলমগীর সরকার ও জাহিদুল ইসলাম। শুক্রবার বাবু বাজার এলাকা ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ধানমন্ডি শাখায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার এবং ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৩] ডিবি লালবাগ বিভাগের কোতয়ালী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ জানান, কতিপয় ব্যক্তি বাবু বাজার এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য অক্সি-মরফোন বিক্রির জন্য অবস্থান করছে বলে তথ্য পেয়ে ওই এলাকায় শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় আলমগীর ও জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হতে ২ হাজার পিস অক্সি-মরফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যে একইদিন রাতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ধানমন্ডি শাখায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১ হাজার পিস অক্সি-মরফোন উদ্ধার করা হয়।

[৪] তিনি বলেন, অক্সি-মরফোন হলো মরফিনের একটি এনালগ, যা একটি এনালজেসিক ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ইনজেকশন থেকে ওরাল ফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি মূলত কাজ করে সেন্ট্রাল নার্ভ সিস্টেমে (ব্রেইনে)। তীব্র ব্যথানাশক হিসেবে ক্যান্সার, হার্ট, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর তীব্র ব্যথা কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

[৫] অক্সি-মরফোন একটি ইউফোরিক ড্রাগ। যা মস্তিষ্কে প্রচন্ড আনন্দ অনুভূতি তৈরি করে। শরীরে সাময়িকভাবে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা ভুলিয়ে দেয়। ব্যথার সিগন্যাল গিয়ে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করতে পারে না। মস্তিষ্ক বোধহীন অসাড় হয়ে যায়। মূলত মাদকসেবীরা অক্সি-মরফোন গুড়ো করে যেকোন সিরাপ বা পানীয় এর সাথে মিক্স করে খেয়ে ফেলে। যুব সমাজ বিশেষ করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ব্যাপক ব্যবহার গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ বিক্রি ও বাজারজাতের অনুমোদন দেয়। যা নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে লাইসেন্স প্রদর্শন করে পরিবহনের রুট দেখিয়ে এবং কার কাছে বিক্রি করা হবে তা বলে গ্রহণ এবং বিক্রি করতে হয়। প্রচণ্ড পরিমাণে ভয়ঙ্কর ড্রাগ হওয়ায় কোম্পানিগুলো তাদের প্রচলিত মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করে। এর বিপণন নিষিদ্ধ। এরপরও এতো বিপুল সংখ্যক ড্রাগ আসামীদের কাছে কীভাবে এলো তা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[৬] গ্রেপ্তারকৃতরা বিপুল পরিমাণে ভয়ঙ্কর এই মাদক সংগ্রহ করে মাদকসেবীদের কাছে যত্রতত্র বিক্রি করতেন বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান আজাদ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত