প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পার্শ্ববর্তী দেশে মানবপাচার চক্রের মূল হোতাসহ আটক ৫

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের মূল হোতা ৫ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। আটকরা হলেন- মূল হোতা ফয়সাল (৩৪), সোহেল হোসেন (৩০), রুবি ওরফে ডলির মা (৫০), সেলিনা (৪০) ও কল্পনা (৪৫)। আটক সোহেলের কাছ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের জাল আধারকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

[৩] মূল হোতা ফয়সালের নেতৃত্বে চক্রটি এখন পর্যন্ত চার শতাধিক ভিক্টিমকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

[৪] র‌্যাব-৩ জানায়, কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যাটালিয়নে অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে পাসপোর্ট ছাড়া নারী পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করছে। এছাড়া একজন ভুক্তভোগীর অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, চক্রটি গত বছরের ২০ মে তার কন্যাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভিকটিমের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

[৫] র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক বলেন, চক্রের মূলহোতা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পার্শ্ববর্তী দেশে নারী ভিকটিম পাচার করছেন। তিনি সোহেল, রুবি, সেলিনা ও কল্পনাসহ বিভিন্ন স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ভিকটিম সংগ্রহ করেন। এছাড়াও তিনি এবং তার সহযোগী নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমদের পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে থাকে। এরপর ভিকটিমের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভিক্টিমের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন।

[৬] ভিকটিম রাজি হলে তার পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে কৌশলে ভিকটিমকে ডলির মার কাছে নিয়ে রাখে। ডলির মা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে মন ভোলানো কথা বার্তার মাধ্যমে ভিকটিমদের সাথে সুসর্ম্পক গড়ে তোলেন। এতে ভিকটিম তাকে তার মাতৃস্থানীয় ভাবতে থাকে। এরপর সোহেল ভিকটিমকে বাসে করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে বাংলাদেশি দালালদের কাছে হস্তান্তর করেন। দালাল সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ভিকটিমদের আশ্রয় দেয়। এরপর সুযোগ বুঝে পার্শ্ববর্তী দেশের দালাল মোটরসাইকেলে করে নদী ও জঙ্গল পথে পায়ে হেটে সীমান্ত পার করে দেয়। এরপর ভিকটিমদের ট্রেনে করে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি এলাকায় ফয়সালের ভাড়া বাসায় নিয়ে রাখা হতোয়।

[৭] ভিকটিমদের পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন মধ্যম ও নিম্নমানের হোটেল মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েতা। এরপর ভিকটিমদের জোর করে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কোনও ভিকটিম অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
যেহেতু ভিকটিমদের পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে পাচার করা হয়, তাই পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার পর তারা দালালদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। ভিকটিম ওই স্থান থেকে পালানোর সুযোগ পেলেও বৈধভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনও সুযোগ থাকে না। তখন বাধ্য হয়ে দালালদের নির্দেশ পালন করা ছাড়া তাদের কোন উপায় থাকে না।

[৮] জিজ্ঞাসাবাদে আটক চক্রের মূল হোতা ফয়সালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, এভাবে অবৈধ পথে একজন ভিকটিমকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করতে তার ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি স্থানীয় দালালকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, যাতায়াত খরচ ৫ হাজার টাকা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের দালালকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

[৯] একজন ভিকটিমকে দিয়ে অসামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ফয়সাল মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন। ভিক্টিম তার আদেশ অমান্য করলে তাকে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হােত। ফয়সালের নেতৃত্বে চক্রটি এ পর্যন্ত চার শতাধিক ভিক্টিমকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে।

[১০] র‌্যাব জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে লালবাগ থানায় ১টি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য ফয়সাল পার্শ্ববর্তী দেশে দুইবার গ্রেপ্তার হয়ে ছয় মাস করে জেল খেটেছেন এবং সোহেল ছয় মাস জেল খেটেছে।

সর্বাধিক পঠিত