প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফুজ্জামান তুহিন: সরকারকে বুদ্ধি দেয় কারা?

আরিফুজ্জামান তুহিন
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৬০ টাকা ফারাক ছিলো। অর্থাৎ ভারতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১২৫ টাকা। তো ভারত ১০ টাকা কমিয়ে ১১৫ টাকা করেছে। বাংলাদেশ ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছে। প্রশ্ন হলো, ১৫ টাকা কেন বাড়বে? গত সাত বছরে বিপিসি তেল বেচে ৪০ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে সরকার মানে বিপিসিসহ এই খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার নগদ ১ লাখ কোাটি টাকা নিয়ে গেছে। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে যতোখানি বেড়েছে তাতে আগামী জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। তার চেয়ে বড় কথা, বিপিসির আদৌ লোকসান হয় কিনা তা আমরা জানি না। বিপিসিতে গত ৪০ বছর কোনো অডিট হয়নি। বিপিসিতে অডিট হলে হাজার হাজার কোটি টাকার কোনো হদিস দিতে পারবে না। এটা কয়লা চুরির চেয়ে বড় ঘটনা হবে। যে প্রতিষ্ঠানে অডিট হয় না, তারা কেমনে লাভ লোকসানের হিসাব করে বুঝি না। বিজেপি সরকারের চেয়ে কম টাকায় বাংলাদেশে লীগ সরকার তেল দিচ্ছে এটাইতো বলতে পারতো। তা না করে দাম বাড়ালো।

জ্বালানি তেলে ৩০ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া বন্ধ করলে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে লিটার প্রতি ১০ টাকা কমানো সম্ভব। আপনি কি জানেন, বিপিসি তেল আনলে তাকে ৩০ শতাংশ নানান ধরনের কর দিতে হয়। আর সামিট, ওরিয়ন, ইউনাইটেড যখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেল আমদানি করে তখন সরকার উল্টো তাদের ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়। অথচ এই বেসরকারি হাঙ্গরগুলো বিপিসির অবকাঠামো ব্যবহার করে। তাহলে বোঝেন, কেমন বৈষম্য পাবলিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তেলের দাম বাড়ানোর বুদ্ধি যে দিচ্ছে সে মূলত দেশের গোটা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ দেওয়ার জন্য এটা করেছে। অত্যন্ত নিন্দনীয় হয়েছে কাজটা। বিপিসিসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে সরকার ১ লাখ কোটি টাকা নিয়ে তাদের সর্বহারা করেছে, এখন তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে সর্বহারা করার নীতি নিয়েছে। আপনার সাধের কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর গরিবের সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। বাজারের আগুন ভদ্রলোকের গায়ে লাগে না। লাগলে বুঝতেন কোাথায় সংকট। Arifuzzaman Tuhin-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত