প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার নাম-সিল ব্যবহার করে জালিয়াতি: আটক ১

সুজন কৈরী: [২] বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার নাম-সিল ব্যবহার করে জালিয়াতির দায়ে মোহাম্মদআনিসুর রহমান নামের একজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৪।

[৩] শুক্রবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১টি ব্ল্যাংক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, জমির চুক্তিপত্র, চেক বহি, এটিএম কার্ড, ভুয়া সমবায় সমিতি কার্ড, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন ভুয়া সীল জব্দ করা হয়েছে।

[৪] শনিবার র‌্যাব-৪ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আনিসুর ১৯৯১ সালে ঢাকায় আসেন এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পিয়ন পদে চাকরিরত জনৈক মৃত আব্দুল মান্নান সরদারের কাছে আশ্রয় নেন। তার সহায়তায় আনিসুর ঢাকার একটি কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপালের বাসায় গৃহকর্মে নিয়োজিত ছিলেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা আনিসুর ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১০ বছর ওই বাসায় থাকার পর চট্টগ্রাম টু ঢাকা একটি শীপে কিছুদিন কাজ করেন।

[৫] পরে আনিসুর ২০০৪ সালের দিকে একটি বেসরকারী গ্রুপে মোটরপার্টস সাপ্লাইয়ের কাজ শুরু করেন। আনিস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নাম ব্যাবহার করে কাজ চালালেও প্রকৃতপক্ষে তার কোনও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান ছিলো না। তিনি ধোলাইখাল থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুঁজে জোড়া দিয়ে যন্ত্রপাতি তৈরি করে ওই গ্রুপে সাপ্লাই দিতেন। তার নিজস্ব কোনও মেরামত কারখানাও ছিলো না। অভিযানকালে তার কাছ থেকে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত সিএনজি কনভার্শন ওয়ার্কশপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ম্যানেজার, স্টোর ম্যানেজার, ইত্যাদি সীল পাওয়া যায়।

[৬] র‌্যাব জানায়, প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাতের জন্য আনিসুর এই সীল ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তিনি কালশীতে ভূঁইয়া রেস্তোরা নামে একটি হোটেল চালান এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে প্রচার করেন। কিন্তু অভিযোগ আছে, অন্য একজনের জমি জোর করে দখল করে তিনি এই রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন।

[৭] এছাড়াও আনিসুর জমিজমা কেনাবেচা ও বিশেষ করে মামলা সংক্রান্ত জমিজমার দলিল পত্রাদি তৈরি করে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করে লোক ঠকাচ্ছিলেন। প্রতারণার কাজে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহৃত সিল নিজে বানিয়ে অবৈধভাবে ব্যাবহার করতেন। প্রতারণামূলকভাবে কয়েকটি নমসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে পরিচয় দিতেন। এর মধ্যে আনিস এন্টারপ্রাইজ ফ্যাশন টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্স, ভূঁইয়া রেস্তোরা, ভূইয়া বাজার, মাহিন এন্টারপ্রাইজ, বুশরা হারবাল সেন্টার ইত্যাদি নাম পাওয়া যায়।

[৮] এগুলোর মধ্যে মিরপুর কালশীতে ভূঁইয়া রেস্তোরাটি অন্যের জমি দখল করে প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগ রয়েছে এবং বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই।

[৯] র‌্যাব আরও জানায়, সম্প্রতি আনিসুর উমরান মাকসাদ সমবায় সমিতি নামে কয়েকশো বই ছাপান, যা অভিযানকালে উদ্ধার করা হয়েছে।

[১০] জিজ্ঞাসাবাদে আনিসুর জানিয়েছেন, কোনও সমিতি গঠনের অনুমতি তিনি নেননি এবং সমিতির কোন কমিটি গঠন সদস্য সংগ্রহ করেন নি। অবৈধভাবে সমিতির বই ছাপিয়েছেন।

[১১] র‌্যাব জানায়, আনিস একজন অতি চতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। তিনি নানা কৌশলে প্রতারনামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে মানুষকে ঠকাচ্ছিলেন। গাজীপুরে তার ১৭ শতাংশ জমি আছে এবং মিরপুরে তার একটি ফ্ল্যাট আছে বলে জানা যায়।আনিসুরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সর্বাধিক পঠিত