শিরোনাম
◈ দেবিদ্বারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অবরুদ্ধ এমপি হীরার গাড়িবহর ◈ ভারত‌কে হা‌রি‌য়ে যুব এশিয়া কাপে গ্রুপসেরা পাকিস্তান ◈ সিরিয়ার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত, বড় হারে বাংলাদেশের বাছাইপর্ব শুরু ◈ নাগরিক সেবায় হয়রানি নয়, ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের পথ দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ আসছে টানা চার দিনের লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ ◈ ২৩ বছর পর শিরোপার স্বপ্ন, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ◈ রাজধানীর পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ, পালিয়ে গেল ২ দুর্বৃত্ত ◈ মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে চাকরি, লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ বাংলাদেশি ◈ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর, মিলবে একই পে স্কেল ◈ রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানিতে বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ০২:০৮ রাত
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ০২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অধ্যাপক ড.কামরুল হাসান মামুন: কোনো দেশে শিক্ষকরা নিজ কোর্সের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য টাকা পান?

অধ্যাপক ড.কামরুল হাসান মামুন: ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণ নৈতিকতা বহিভর্‚ত’Ñ ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। ধন্যবাদ অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ! এই কথাটিই আমি অনেকদিন যাবৎ বলে আসছি। এই সিটিং অ্যালাউন্স মানি গ্রহণ একটি সাম্প্রতিক ফেনোমেনা। আজ থেকে ৩০ বছর আগেও ছিলো না। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা কেবল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ না পৃথিবীর জন্যও অনেক কাজ করে যার জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেন না। শিক্ষক ও গবেষকরা জার্নালের রেফারি হয়ে অসম্ভব পরিশ্রম করে কিন্তু তার জন্য কোনো পয়সা যেমন চান না তেমনি পানও না। একসময় জার্নালের এডিটররাও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতেন। ইদানীং অবশ্য তাদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া শুরু হয়েছে। জার্নালগুলোর জন্য গবেষকরা গবেষণা করে সেটা ফরংংবসরহধঃরড়হ বা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আর্টিকেল লেখেন, গবেষকরাই রেফারি হয়ে আর্টিকেলগুলো প্রকাশযোগ্য কিনা যাচাই করে কিন্তু অর্থ আয় করে কোম্পানি। শিক্ষক গবেষকরা কেবল জার্নালেই কাজ করে না। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনেক মিটিংয়ে উপস্থিত থাকে, এডমিনিস্ট্রেটিভ কাজও করে, কিন্তু এসব কাজের জন্যও কোনো টাকা বা ইনভেলপ মানি বা সিটিং অ্যালাউন্স নেন না।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্প্রতি যে হারে অনৈতিক কাজ শুরু হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এটি একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই অন্য বিভাগে পার্টটাইম হিসেবে কাজ করে অর্থ গ্রহণ কতোটা নৈতিক? আগে প্রতিটা বিভাগ অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ংঁনংরফরধৎু ক্লাস নিতো কিন্তু তার জন্য আলাদা কোনো বেতন ছিলো বা অর্থ প্রাপ্তির বিষয় ছিলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য কোনো সিটিং এলাউন্স ছিলো না। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে শিক্ষকরা নিজ কোর্সের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য টাকা পান? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলো কেন করা হয়েছে? কারণ আমরা গরিব। আমাদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ। ফলে আমাদের কোনো আত্মসম্মানবোধ জন্মায়নি। যেহেতু আমাদের শিক্ষকদের নির্বাচন আছে তাই শিক্ষকদের এসব সস্তা সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ভোট প্রাপ্তির বিষয়টাও জড়িত। এসবের মাধ্যমে সমাজে যে আমাদের সম্মানহানি ঘটছে সেটা কেউ বুঝতে চাচ্ছেন না। গরিব হলে যেমনটা ঘটে তেমনটাই ঘটছে। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

  • সর্বশেষ