প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পীরগঞ্জে পেট্রল নিয়ে বহিরাগতরা হামলায় অংশ নেয়: স্পীকার

আফরোজা সরকার: [২] রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সময়ে বহিরাগতরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ওই আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।

[৩] স্পীকার বলেন, আমরা স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে হামলার সময়ে বাইরে থেকে অনেক বহিরাগত ছিল। যাদের চেহারা দেখে এলাকার লোকজন তাদের চিনতে পারেনি। বহিরাগতদের অনেকের কাছে পেট্রল ছিল। অবশ্যই এটা পরিকল্পিত ঘটনা। তা না হলে এধরণের একটা ঘটনা ঘটার কথা নয়। পীরগঞ্জে এ ধরণের অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি।

[৪] মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামের উত্তরপাড়া পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এরআগে দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

[৫] স্পীকার শিরিন শারমিন বলেন, এবার পূজাতেও পীরগঞ্জের ৯৮টি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন হয়েছে। সেখানে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আমরা ব্যক্তিগত, উপেজলা প্রশাসন ও দলের সহায়তা ছিল। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় পূজার সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পূজা শেষে হঠাৎ এ ধরণের নাশকতামূলক ঘটনার কিভাবে ঘটলো, এটার গোড়ায় আমাদের যেতে হবে।

[৬] সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীদের গোড়া বের করা সম্ভব হবে জানিয়েছে তিনি আরও বলেন, রামনাথপুরের মাঝিপাড়ায় উত্তেজনা ছড়ানোর খবর আমরা পাওয়ার আগে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পেয়েছিলেন। পীরগঞ্জ থানার ওসি তার ফোর্স নিয়ে সেখানে গিয়েছিল। মাঝিপাড়াকে তারা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছে। তাদের যত ফোর্স ছিল, সবকিছু দিয়ে তারা মাঝিপাড়াকে ঘিরে রেখেছিল। যাতে সেখানে কোনো ধরণের আক্রমণ না হতে পারে।

[৭] এরমধ্যে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারও সেখানে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে মাঝিপাড়ায় আক্রমণ না করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতরা বড় করিমপুরে তারা কিছু কিছু বাড়িতে বিচ্ছিন্ন ভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন সেখানে পুলিশের ফোর্স টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে।

[৮] শিরিন শারমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছেন। আমরা ওই সময়ে পুলিশের পাশাপাশি সেখানে বিজিও, র ্যাব ও ফায়ার সার্ভিস পাঠিয়েছি। তাদের চেষ্টা আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তারপরও ২৮টি বাড়ি পুড়ে গেছে। কিছু গবাদিপশু পুড়ে গেছে এবং অনেকের বাড়িঘরের সমস্ত আসবাবপত্র অগ্নিসংযোগে নষ্ট হয়ে গেছে। এধরণের ন্যাক্কারজনক, নাশকতামূলক যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যারা এধরণের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আমি আশা করছি, প্রশাসন একটা সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যদিয়ে প্রকৃত যারা অপরাধীদেরকে চিন্হিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করবেন।

[৯] তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তৎক্ষনাৎ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। চাল, ডাল একটি করে শাড়িসহ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের পূনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, অর্থ প্রদান, ব্যাবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসা করতে সহযোগিতা ও মন্দির পুননির্মাণ করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন।

[১০] এ সময় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনিসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

[১১] উল্লেখ্য, গত রোববার (১৭ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উগ্রবাদীরা। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি মামলা হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট দেয়া যুবক পরিতোষ সরকারকেসহ হামলার ঘটনায় জড়িত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত