কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১৬ বাঁশখালী আসনটি গুরুপ্তপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। নির্বাচনী সকল তথ্য এবং যে কোন নির্বাচনী কেন্দ্রে সহজে যাতায়াতের জন্য বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তত্বাবধানে " মিত্র " অ্যাপস চালু করা হয়েছে । যে কোন অবস্থাতে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে বাঁশখালীতে ৫০০ শতাধিক সেনা সদস্যসহ পুলিশ,বিজিবি,আনসার সহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে।
বুধবার (১১ফেব্রয়ারি ) সকাল থেকে নির্বাচনী কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌছানোর জন্য প্রিসাইডিং ,সহকারি প্রিসাইডিং ও পোলিং সহ আইনশৃংখলা বাহিনী উপজেলায় জড়ো হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ৭ প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ প্রতীক),
বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সহ সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও গন্ডামারার পদত্যাগী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল প্রতীক), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী,(চেয়ার প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক প্রতীক),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা প্রতীক), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেল প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ১১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৫৬০ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার হলেন ৪ জন। ১১২টি ভোট কেন্দ্রে ১১২জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৭২০জন সহকারি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১৪৪০জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে । নির্বাচনে ৬৫৮টি স্থায়ী ৬২টি অস্থায়ী মোট ৭২০টি কক্ষে ভোট প্রদান করবে।
এবার নির্বাচনে যে কোন কিছুর বিনিময়ে এবার বিজয় পেতে মরিয়া জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম । তাদের সুনিদিষ্ট ভোট ব্যাংকের বাহিরে গিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিজেদের কাতরে আনতে প্রতিনিয়ত ঐসব এলাকায় প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে । বিগত অনেকদিন আগে থেকে তাদের করে রাখা কেন্দ্র কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা শেয়ার করে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জাবিত করে যাচ্ছে । এছাড়া শেষ নির্বাচনী সভায় জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবিরের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বাঁশখালী আসনে এবার জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত সে কথা। এছাড়া জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম নিজেও এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন "জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে হলেও মুহতরাম আমীরে জামায়াতের তুলে দেয়া এই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।"
বিগত দিনে বাঁশখালীতে জামায়াতের পক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে ও কোন বিজয় না পেলেও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল জামায়াত প্রার্থীরা।
অপরদিকে বিগত দিনে বিএনপি ৫ বার বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত হলে ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এ আসন হাতছাড়া হয় । সে আসনে পুনরায় দখলে নিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে দলের প্রার্থী করা এবং সকল নেতাকর্মী মাঠ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রচার প্রচারনা চালানো সব মিলিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সপ্তম জাতীয় সংসদ ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়। এরপর ২০০১ সালের ১অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, এবং সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে ও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে এ আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে চলে যায় । দীর্ঘদিন পর এ আসনটি আবারো বিজয় পেতে বিএনপি কাজ করে গেলে তাদের জয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, নির্বাচনে পুলিশের পক্ষ থেকে ৩টি স্টাইকিং ফোর্স, ১১টি মোবাইল টিম এবং প্রতিকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য সহ ২জন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি জানান।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচন বিগত নির্বাচন থেকে ভিন্ন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ খেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে সুষ্ট ও শান্তিপুর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের মোবাইল টিম কঠোর নজরদারি রেখেছে। কোনো অনিয়ম কিংবা অপরাধের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।