প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেজর সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

আয়াছ রনি, কক্সবাজার: [২] কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডে শামলাপুর এপিবিএন পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে হত্যার শিকার মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তাকে হত্যা মামলায় চতুর্থ দফায় প্রথম দিনে তিন জনের সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ও আসামিদের পক্ষে জেরা সম্পন্ন করে উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীরা।

[৩] এ সময় সাক্ষী ছেনুয়ারা বেগম আদালতে তার স্বামী সিএনজি গাড়ি চালক আব্দুল জলিল কে ওসি প্রদীপ কিভাবে নগদ ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পরেও ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে বর্ণনা দেওয়ার সময় আদলতে উপস্থিত সবার চোখে অশ্রু চলে আসে। তাছাড়া সে আরোও বলেন, মেজর সিনহা ওসি প্রদীপের ক্রসফায়ার নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছে খবর শুনে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মেজর সিনহার কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়। এই পুলিশ জানতে পারলে তার বাড়িতে গিয়ে ভিডিও সাক্ষাতকারের কথা জানতে চাইলে সে দেয়নি বলে অস্বীকার করে। কিছু দিন পর জানতে পারে ওসি প্রদীপ সে ভিডিও নেয়া ব্যক্তিকে মেরে ফেলেছে। ঘটনার সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতে উপস্থিত আসামী প্রদীপের চেহারা বিমূর্ষ দেখা যায়।

[৪] কক্সবাজার জজ কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)এড. ফরিদুল আলম জানান, বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দফায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এর আদালতে।

[৫] কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার এম নুরুল কবির জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য সমন দেওয়া হয়েছে সালেহ আহম্মদ, বেবী ইসলাম, নিহত সিনহার মা মোছাম্মৎ নাছিমা আক্তার, ফরিদুল মোস্তফা খান ও সার্জেন্ট মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

[৬] রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটির আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) এডভোকেট ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোজাফফর আহমদ, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করে। এসময় বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর পক্ষে আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত আছে এডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা, এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট মাহবুবুল আলম টিপু, এডভোকেট ফারজানা, এডভোকেট ছৈয়দুল ইসলাম, এডভোকেট এসমিকা।

[৭] আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা হচ্ছে এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, এডভোকেট দিলীপ দাশ, এডভোকেট শামশুল আলম, এডভোকেট মমতাজ আহমদ (সাবেক পিপি) এডভোকেট মোহাম্মদ জাকারিয়া, এডভোকেট চন্দন দাশ, এডভোকেট এম.এ বারী, এডভোকেট ওসমান সরওয়ার শাহীন, এডভোকেট মোশাররফ হোসেন শিমুল প্রমুখ সাক্ষীদের জেরা করবেন।

[৮] মামলায় কারাগারে থাকা ১৫ আসামিকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। আসামিরা হলো- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

[৯] এপর্যন্ত আদালতে চার্জশিট ভুক্ত সাক্ষীদের মধ্যে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা হলো- মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাহিদুল ইসলাম সিফাত, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আমিন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মেজর (অব:) সিনহার ‘জাস্ট গো’ ফ্লিম টিমের সদস্য শিপ্রা দেবনাথ, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী, ডা. রনধীর দেবনাথ,ছেনুয়ারা বেগম, হামজালাল, আলী আকবর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত