প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সালেম সুলেরী: প্রয়াণ দিবসে সৈয়দ শামসুল হকের ‘লোমখাড়ানো’ গল্প

সালেম সুলেরী: বন্ধু গৌতম বললো হক ভাই তোমাকে খুঁজছেন। গডকাল আমাদের অফিসে এসেছিলেন। কালকে বিকেলেও আসবেন, তুমিও আসো। বললাম, ঠিক আছে, কিন্তু জরুরী কিছু? গৌতম বললো এলেই বুঝতে পারবে কতোটা জরুরী। বললাম, তোমাকে তো ফোনে পাইনা। কেবল বিজি বিজি বিজি। অনেক ব্যবসা পেয়েছো মনে হয়? গৌতম ভেংচি কাটে– বিজনেস না ছাতা। তোমার বন্ধুরা সারাদিন প্রেম করা নিয়ে ব্যস্ত। ফোনটা ঘন্টার পর ঘন্টা তাদেরই দখলে। একবার ফরিদ কবির, আরেকবার শাহরিয়ার।
তো ফোনের ওপারে কারা, নাম জানো? একেকসময় একেকজন, তবে বিলোরা চৌধুরী বেশি…!

তুমিও তো একই লাইনের, অন্যদের কি আর দোষ.. ঘটনাবলী আশির দশকের, ১৯৮৮-৮৯। গৌতম বললো, ভাগ্যিস ফোনটা এনে দিয়েছিলে। না হলে অফিসটাই মাঠে মারা যেতো। জানতেই পারতাম না কবিদের হৃদয়ে এতো প্রেম!

গৌতম সাহা আমার অকালপ্রয়াত অ-ভেজাল বন্ধু। ‘সৃষ্টি লিমিটেড’ প্রিন্টিং ও সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। ১৯৮৫-তে আমরা একসঙ্গে মিলেই এটি করেছিলাম। ‘দৈনিক জনতা’ বন্ধ হলে একবছর এডফার্মে বসি। সঙ্গে অভিনেতা সদরুল পাশা, আইয়ুব হোসেন। তখনই ‘সাংবাদিকতা’র ক্ষমতায় বাণিজ্যিক ফোনটি নেই। ল্যান্ডফোন— আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার অবস্থা যেন। সেই সময়ে মোবাইল ফোনের কথা স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। ‘সৃষ্টি লিমিটেডে’র অফিসটি ১ রামকৃষ্ণ মিশন রোডে। তৎকালীন ইত্তেফাক অফিসের কাছাকাছি ছয়তলায়। পাশের অ্যাপার্টমেন্টেই বাসা কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের। ১৯৮৫-তে থাকতেন আমাদের হাতিরপুলের বাসার পাশেই।
কবিতা দিয়ে ডেস্ক ক্যালেন্ডার বের করেছিলো গৌতম। কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে হঠাৎই আলোচিত হয়ে ওঠে। তবে যে কোন বিষয়ে একটু রহস্য করা ওর অভ্যাস। বললাম হক ভাই কেনো খুঁজছেন একটু বলো। কিন্তু না, শতভাগ কুলুপ এঁটে থাকলো মুখে।

হক ভাই-এর সাদা ও কালো দুটি দিকই রয়েছে। ‘প্রথম জাতীয় কবিতা উৎসবে’ বিষয়টি দেখেছি। প্রস্তুতি বৈঠক ছিলো ১৯৮৬-এর ডিসেম্বরে, টিএসসিতে।শামসুর রাহমানকে আমরা এনেছিলাম আহ্বায়ক করবো বলে। ড. হুমায়ূন আজাদ, সৈয়দ হক তা হতে দেবেন না। ড. হুমায়ূন প্রস্তাব করেন সাতজন আহ্বায়ক হবেন। সৈয়দ হক ভাই বলেন– না, পনেরজন। গণতন্ত্রকে সম্প্রসারিত করতে একক নেতৃত্ব নয়। তাঁদের কথায় বিরক্ত হয়ে টেবিল চাপড়ে দিয়েছিলাম। বলেছি– এক দেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকেন। একজন প্রধানমন্ত্রী থাকেন। কাজতো আমরা তরুণেরাই করবো। পনেরজন আহ্বায়ক মাথার ওপর থাকলে কার নির্দেশ শুনবো? কাকে মেনে আমরা কাজ এগিয়ে নেবো। আজকের সভায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। এখন এতোকিছু বুঝি না। দেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান। আমাদের আহ্বানে উনি এসেছেন। ওনাকেই আমরা কবিতা উৎসবের আহ্বায়ক করবো। যুগ্ম আহ্বায়ক বা অন্যান্য পদে কে কিভাবে থাকবেন, থাকেন।

আমাদের তারুণ্যের ঠমক দেখে অন্যরা আর না করেন নি। সভা শেষে হক ভাই আড়ালে ডেকেছিলেন। বললেন— তোমাদের দেশের বাড়ি না বৃহত্তর রংপুরে? আমারওতো বৃহত্তর রংপুর, কুড়িগ্রামে। বললাম, সেটা জানি, কিন্তু উৎসব কমিটিতে কি ওসব চলে!
ঘটনাটির দেড় বছর পর হক ভাই আমাকে ডাকছেন। মাঝে কবি মোহন রায়হানের সঙ্গে বিরোধ হয়েছিলো। সেটিও আইনগতভাবে মিটমাট হয়ে গেছে। তাহলে নতুন কি বিষয় থাকতে পারে সব্যসাচী লেখকের! আমি তখন সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ-এর নির্বাহী সম্পাদক। সার্কুলেশনে সেরা ম্যাগাজিন, বিচিত্রা’কে ছাড়িয়ে গেছে। হক ভাই ‘মার্জিনে মন্তব্য’ কলাম লিখতেন ‘বিচিত্রা’য়। ‘হৃৎকলমের টানে’ লিখতেন সংবাদ সাময়িকী’তে। দুটোই সমাজ ও সাহিত্যপ্রধান জনপ্রিয় কলাম। হক ভাই কি ‘সন্দ্বীপ’ ম্যাগাজিনেও কলাম লিখতে চান? কিন্তু আমাদের ৩২ পৃষ্ঠার মেদহীন ম্যাগাজিনে তা অসম্ভব। ‘মানবজমিন’ সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ‘কূটনৈতিক কলাম’ লিখতেন। তিনি তিনবার প্রস্তাব করেন মতিউর রহমান বিষয়ে। ‘প্রথম আলো’-খ্যাত মতি ভাই তখন সাপ্তাহিক একতা সম্পাদক। ওনার প্রস্তাবিত কলামও আমরা মুদ্রণে নিতে পারিনি। কারণ পৃষ্ঠা বাড়ালে তিনটাকায় পত্রিকা দেয়া সম্ভব হবে না।
সিঁড়ি ভেঙ্গে সৃষ্টি’র ছয়তলা অফিসে হাজির হলাম। দেখি চিত্রশিল্পী শ্যালিকাকে নিয়ে হক ভাই উপবিষ্ট। সালাম নিয়ে শ্যালিকার সাথে পরিচয় করালেন। বললেন, ও কবি-সাংবাদিক, আমাদের রংপুরের ছেলে। কিছুক্ষণ আলাপের পরই আমাকে নিয়ে আলাদা হলেন। বারান্দাটি ছোট হলেও বসার ব্যবস্থাটি আরামদায়ক। শুরুতেই আক্রমণ করে বসলেন। বললেন, গৌতমের সংসারটি তুমি ভাংছো কেনো? বন্ধুপত্নী সাথী সাহা নাকি তোমার জন্যে পাগল? কিভাবে ঘটালে এতোসব নাটকীয় আখ্যান?

সৈয়দ হক ভাই-এর কথা শুনে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বললাম আমিতো এসবের বিন্দু বিসর্গ জানিনা। গৌতমকে বিষয়টি বলেছি, ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করেছি। কিন্তু আপনার পর্যন্ত গড়াবে– বুঝতে পারিনি।

হক ভাই আরও কৌতুহলী হয়ে উঠলেন। বললেন, একটু খুলেই বলো তো বিষয়টি। সাথী সাহাতো আমাদের রংপুরেরই মেয়ে। কী থেকে বিষয়টি কি ঘটলো, বয়ান করো।

বললাম, ঘটনাটি তিন-চার মাস আগের। গৌতম একদিন তিন-চারটা প্রেমের কবিতার বই আনলো। বেশ মোটা মোটা, অধিকাংশই ভারতীয়। বললো, সুন্দর সুন্দর প্রেমের পংক্তি লিখে দিতে। তবে নিচে নাম, স্বাক্ষর, তারিখ থাকবে না। সে এগুলো সাথী নামের মেয়েকে উপহার দেবে। মেয়েটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ছে। রোকেয়া বা শামসুন্নাহার হলে থাকে। গৌতম বললো– সম্পর্ক কিছুটা এগিয়েছে। তবে বইগুলো একসঙ্গে নয়, পর্বে পর্বে দেবে।

এরপর আরও দুই দফায় প্রেমের পংক্তি লিখে নেয়। প্রতিবারই গৌতম নিচে নিজের স্বাক্ষর বসায়। তিন সপ্তাহেই প্রণয়-সম্পর্কটি গভীর করে ফেলে।

চতুর্থ সপ্তাহে গৌতমের জরুরী তলব। অফিসে পৌঁছেই দেখি গৌতমের সাজ সাজ রব। বললো, সাথী গ্রামের বাড়ি রংপুর গিয়েছিলো। ওখানে পারিবারিক ঝামেলা হয়েছে। ঝন্টু নামে পাড়ার এক মাস্তান সাথীকে বিয়ে করবে। প্রয়োজনে উঠিয়ে নিয়ে যাবে, হুমকি দিয়েছে। তাই আর অপেক্ষা নয়, রংপুর চলো। মাইক্রোবাস আর ৩-৪ সঙ্গী প্রস্তুত। দেখলাম, ইত্তেফাকের ফটো-সাংবাদিক আজিজুর রহিম পিউকেও। আমাদের বন্ধু, মামু ডাকি, পরে প্রয়াত। পিউ-এর মামা তখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। প্রেসিডেন্ট জে. এরশাদের সঙ্গে এটাচ্ড। পিউদের পৈতৃকবাসও রংপুর শহরে। বললাম, আর অসুবিধে নেই, প্রস্তুতি ভালোই। কিন্তু আমি হুট করে যেতে পারবো না। সোমবার পত্রিকার প্রকাশনা, শনি-রবি অফিসে থাকতেই হয়।

গৌতম আর আমার অপেক্ষা করলো না। আমাকে ছাড়াই বিবাহ অভিযান সফল করলো। বাবা-মা’র একমাত্র ছেলে সে। পুরোন ঢাকার গেন্ডারিয়ায় পৈতৃকবাড়ি। গ্রামের বাড়ি অবশ্য কিশোরগন্জের কটিয়াদিতে। আমি সেখানেও গিয়েছিলাম ১৯৮৬-তে। গৌতমের বাবা সিভিল সার্জন, মা অধ্যাপক। চার বোনও শিক্ষিত তবে আদুরে গৌতম লবডংকা। স্কুলের গন্ডি পেরোতে পারেনি বখাটেপনার জন্যে। অবশ্য স্মার্টনেস, বুদ্ধিমত্তায় ও সৌন্দর্যে আগুয়ান। ছোট-বড়ো অনেক ধরণের প্রেমও করেছে। অবশেষে অনার্স পাশ মেয়ে পেয়ে পরিবার মহাখুশি। ‘সাত পাকে বাঁধা’ জাতীয় আনুষ্ঠানিকতায় বরণও করা হলো। বন্ধু হিসেবে আমি এসবে উপস্থিত ছিলাম। সেবারই সাথী বৌদির সাথে প্রথম পরিচয়।

সৈয়দ হক ভাই তাড়া দিলেন– তাহলে আসল ঘটনা? বললাম– বিয়ের ঠিক দশ দিন পরেই ঘটনা। আমি সন্দ্বীপ অফিসে বসে আছি। সেই সপ্তাহের সম্পাদকীয় লিখছিলাম। হঠাৎ দেখি সাথী বৌদি হন হন করে ঢুকলেন। সঙ্গে একটি ছোট কাজের মেয়ে। দু’জনের বগলে ছয়টি মোটা বই। ধড়াম করে ফেললেন টেবিলের ওপরে। তারপর টান দিয়ে আয়ত্বে নিলেন নোটপ্যাডটি। কোটি টাকার সম্পদ যেন হাতে পেলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি উদ্বিগ্ন। বলার চেষ্টা করছি– বৌদি হঠাৎ এখানে। কি হয়েছে, কি ঘটেছে, একটু বসুন, খুলে বলুন।

বৌদি বসলেন না এবং জেরা করতে থাকলেন। মোটা বইগুলোর উপহার পৃষ্ঠা খুললেন। বললেন, এই হাতের লেখাগুলো কার? এই প্রেমের কবিতাগুলো কার? আমি এই কবিতার মানুষের সঙ্গে প্রেম করেছি। কবিতার পংক্তি পড়ে আকৃষ্ট হয়েছি। আমি সম্পর্ক করেছি এই কবিতার মানুষের সাথে। এখন আমি আর কিছু বুঝতে চাই না। আমি এই কবিকে চাই, আমি ঠকতে চাই না।

অনেক কষ্টে সাথী বউদিকে বসালাম। চা আনালাম কিন্তু তা ঠান্ডা হয়ে গেলো। বউদির লাল চোখ আমার অবয়ব বরাবর। যতোবার মুখ তুলি চোখাচোখি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হই। নিজেও তখন অবিবাহিত তরুণ। বিবাহ বিষয়ক এমন জটিলতায় কখনো পড়িনি। বউদির দিক তাকাতেই দেখি আরেক ঘটনা। সম্পাদকীয় লেখার নোটপ্যাড হাতের মুঠোয়। বলছেন, এই যে হাতের লেখার প্রমাণ। এই হস্তাক্ষরেই প্রেমের পংক্তি রচিত। আমি এই হস্তাক্ষরের কবিকেই চাই। আজকে সমাধান না হলে পত্রিকার মালিকের কাছে যাবো। ওনার কাছে বিচার দেবো, সমাধান নিবো।

আমি ভেতরে ভেতরে ভয় পেয়ে যাই। তারপর দেখছি, দেখবো বলে বউদিকে শান্ত করি। অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠাই। তারপর গৌতমকে ফোন দিয়ে গালাগালি করি। বলি– নিশ্চয়ই কিছু অঘটন ঘটিয়েছো। আগের দুই নম্বরীগুলো এখনো আছে, না ছেড়েছো? গৌতম বললো, না, ঘটনার নেপথ্যে আসলে তুলসী’দা। তুমিতো চেনো, আমার মাসতুতো ভাই। মুক্তিযোদ্ধা, অফিসে বসে, একেবারে সৎ। আমার জীবনের ‘নেগেটিভ সাবজেক্ট’ সব বলে দিয়েছে। আমি যে ‘নন ম্যাট্রিক’, পল্টিবাজ– সব সব। সাথীকে পরামর্শ দিয়েছে– আমাকে ঠিক করার জন্য। বই-এর কবিতাগুলো তোমার– সেটাও বলেছে। তোমার অফিসের ঠিকানা তুলসী’দাই দিয়েছে।

আমি বললাম– তোমার মা মানে মাসীমাকে লাগাও। উনি বললে সাথী বউদি একটু ঠান্ডা হবে। তুমিও আদর-সোহাগ দিয়ে ওনাকে শীতল করো। আবার এদিক এলে আমার জন্যে বিপদ হবে।

সৈয়দ হক ভাই পুরোটা জেনে হাঁফ ছাড়লেন। বললেন– তাহলে ‘খেলারাম’ হচ্ছে গৌতম। আমি তো ভেবেছিলাম নাটের গুরু তুমি।
কি বলেন হক ভাই, আমি তো একেবারে ‘ইনোসেন্ট’। হুম, ‘তারে আমি বলি জাদুকর, যে তার রুমাল নাড়ে পরানের গহীন ভিতর।’
এতো কম বয়েসে এতো বড়ো খেলা তোমরা খেলো! এখন বলো, এসবের সমাধান কি? বিষয়টি আমার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। একটা কিছু তো করা দরকার।

আমার ভাবনা হলো একটা ‘বিবাহোত্তর সংবর্ধনা’। স্মৃতিময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুটি বাঁধানো। তাতে গান-কবিতা আর করণীয় বিষয়ক আলোচনা থাকলো। বিয়ের পর দায়িত্ববান হতে হয়– এসব আর কি।  ভালো বলেছো, করে ফেলো সম্প্রীতি উৎসব। আমিও তাতে অবরে সবরে থাকবো।

জ্বি, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা হলো হোটেল শেরাটনে। হক ভাই জেনারেল ম্যানেজারকে ফোন দিয়েছিলেন। বলেছেন, শিল্প-সাহিত্য-প্রধান অনুষ্ঠান। বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা যেন থাকে। আমাদের অবাক করে ৪০% ছাড় দিলো কর্তৃপক্ষ। সেই আয়োজনে শীর্ষকবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ ছিলেন। আল মুজাহিদী, আসাদ চৌধুরী, হেলাল হাফিজও। সন্চালনায় চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাস, ছড়ারাজ লুৎফর রহমান রিটন। ছিলেন জাদুকর জুয়েল আইচ, জনপ্রিয় হানিফ সংকেত। সঙ্গীতে ফাতেমাতুজ্জোহরা, সাদী মুহম্মদ, তপন চৌধুরী, সাকিলা। কবিতায় আবু হাসান শাহরিয়ার, সৈয়দ আল ফারুক, ফরিদ কবির। সৈয়দ হক ও আমি বক্তব্যের সাথে কবিতা পড়ি।
সেই বিবাহোত্তর সংবর্ধনা’য় একটি অভাবনীয় ঘটনাও ঘটে। পুরনো বিরোধ নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। এমন অবস্থা হয়ছিলো যে অনুষ্ঠান ভেস্তে যাচ্ছিলো। বিরোধটি কিন্তু ‘গৌতম ও সাথী’র মধ্যে ছিলো না। বিরোধ বাঁধে কবিতে কবিতে, উদ্বোধনীলগ্নেই। চলমান ঘটনার থেকে সেটিও কম নাটকীয় ছিলো না। তাতেও কৌশলী ভূমিকা ছিলো সৈয়দ হক ভাই-এর। অন্য লেখায় আছে সবিস্তার বর্ণনা।
২৭ ডিসেম্বর প্রিয়দিন-জন্মদিন হক ভাই-এর। ১৯৩৫ থেকে ২০১৬-তে গিয়ে পরলোকগমন। এক লেখায় ওনার সঙ্গে আমাদের গল্প ফুরোবে না। সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক অন্যান্য কার্যক্রমেও সাহায্য পেয়েছি। শ্বশুরবাড়ির মানুষ হিসেবে সমাদর করেন শ্রদ্বেয়া ভাবীও। সৈয়দ শামসুল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হক– দারুণ লেখকজুটি। সাহিত্যপ্রাণ দম্পতিটি ছিলো দ্বৈতশাসিত প্রতিষ্ঠানও। নিকটজনদের হৃদয়ভরা শুভেচ্ছা, সপরিবার শুভকামনা। প্রয়াণতিথিতে আর অন্য কোন গল্প নয়। হক ভাই-এর বিদেহী আত্মা স্বর্গবাসী হোক। নিউইয়র্ক (ফেসবুক থেকে)

সর্বশেষ