প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকায় সাড়ে তিন হাজার মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করেছে ডিএনসি

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ১ হাজার ২০০পিস ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৫ জনকে।

[৩] ডিএনসি বলছে, জব্দ করা আইস এখন পর্যন্ত ঢাকায় আটক হওয়া আইসের সবচেয়ে বড় চালান।

[৪] শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিএনসি’র ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, রাজধানীতে সাড়ে তিন হাজার মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে। তালিকাভুক্ত এই মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ সরাসরি জড়িত। কেউ পৃষ্ঠপোষক, আবার কেউ বিনিয়োগকারী।

[৫] তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও খুচরা ও মাদকসেবীদের আলাদা তালিকা করা হয়েছে। মাদকের গড ফাদারদের আইনের আওতায় আনতে অধিদপ্তর চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিলেও এখন পৃষ্টপোষকতা করছেন। কেউবা নিজে সরাসরি না জড়িয়ে লগ্নি করে অন্যদের দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন।

[৬] ফজলুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোনো মাদকসেবী বা কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে হলে তার কাছে থাকা মাদকদ্রব্য জব্দ করতে হয়। সাধারণত মাদকের গড ফাদারদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা বা গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাদক থাকে নিচের দিকের খুচরা কারবারিদের কাছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের হাতেনাতে ধরতে।

[৭] কীভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, জনপ্রতিনিধি, সাধারণ এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী, মাদকসেবী, মাদক কারবারিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য, মামলা বা আগের মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ধরণ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যগত সমন্বয় করে অধিদপ্তর নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করেছে।

[৮] সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বলতে পারবে। সারাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা আলাদা এবং আরও বড়। আমরা ঢাকা বিভাগের মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি।

[৯] তিনি বলেন, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার জন্য লোকবল ও লজিস্টিক সার্পোট কিছুটা বেড়েছে।

[১০] এর আগে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রমনার নিউ ইস্কাটন, গুলশানের বারিধারা, খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ, গ্রীন রোড ও ভাটারার জোয়ার সাহারায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- জাকারিয়া আহমেদ অমন, তারেক আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন, শহীদুল ইসলাম খান ও জসীম উদ্দিন।

[১১] ডিএনসির ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরির্দশক সামছুল কবির, মোহাম্মদপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাজেদুল আলম ও ধানমন্ডি সার্কেলের পরিদর্শক কামরুজ্জামান এসব অভিযান চালান। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর, গুলশান ও ধানমন্ডি থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ