প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] তালিবানি সংস্কৃতি প্রতিহত না করলে বাংলাদেশের অবস্থাও আফগানিস্তানের মতো হতে পারে: শাহরিয়ার কবির

শিমুল মাহমুদ: [২] বুধবার বিকেল ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াড আয়োজিত ‘মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির তিনি এ কথা বলেন।

[৩] তিনি বলেন, ‘ইসলামের দোহাই দিয়ে যে মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘৭১-এর গণহত্যা ও নারী ধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছিল, তারাই ৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মৌলবাদীকরণ ও পাকিস্তানিকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তা বার বার তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরই রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরসূরি হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের তালিবান, আল কায়েদা ও আইএস।’

[৪] নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, ‘সংস্কৃতি প্রবহমান নদীর মতো। নদীতে বাঁধ দিলেও নদীর জল নিজেই তার গতি নির্ধারণ করে নেয়। সংস্কৃতি চর্চাও তেমনি। পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলো কিন্তু সংস্কৃতিকর্মীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক এমনিভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিলো কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতারের সংস্কৃতি কর্মীরা এই অপপ্রচারের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন।’

[৫] লালন সঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি বাউলদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি কেন হবে? আমাদের বাঙালির সংস্কৃতি তো এরকম হিংস্র না। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি একটি মানবিক সংস্কৃতি। ফকির লালন শাহ মানবধর্মকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। তার দর্শন জাত-পাতের ঊর্ধ্বে মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করে। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য কোনো সংস্কৃতির বিরোধ থাকার কথা না। তবুও যদি মৌলবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তবে তা আমাদের প্রতিহত করতে হবে।’

[৬] স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ বলেন, ‘বাঙালি কখনোই সাম্প্রদায়িক ছিল না তারা কী করে সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে? সংখ্যালঘু বলে যারা চিহ্নিত, তাদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি দখল, লুটতরাজ, জোর করে ধর্মান্তরিত করা সবই মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী।’

[৭] বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কার্যক্রম মানুষকে শিক্ষিত করে, সচেতন করে, নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং তাই মৌলবাদী অন্ধত্বের বিনাশ ঘটায়। সে জন্যে জঙ্গি-মৌলবাদীদের প্রধান লক্ষ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।’

[৮] আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘সংস্কৃতি কোনো আলটপকা বিষয় নয় বরং এটি সামজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যক্তি মানুষের মনভূমির ভিত্তি। ফলে সাংস্কৃতিক আন্দোলনও কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের বুনিয়াদি বিষয়।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত