প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খুলনা বিভা‌গে অ‌র্জিত হয়‌নি বো‌রো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

র‌হিদুল খান: [২] সারা দেশে চলতি মৌসু‌মে বোরো ধান-চাল খাদ্য সংগ্রহের লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন ও বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন।

[৩] কৃষকদের কাছ থেকে গত ২৮ এপ্রিল থেকে বোরো ধান ২৭ টাকা কেজি দ‌রে সংগ্রহ করার কথা ছিল। গত ৩১ আগস্ট ছিল সংগ্রহের শেষ দিন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। টার্গেটের বিপরীতে খুলনা বিভাগে অর্জিত হয়েছে ধান মাত্র ৬৪ শতাংশ । এবার ২৭ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয় গত বছর বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনার দাম নির্ধারিত ছিল। চলতি মৌসুমে দাম বৃদ্ধির পরও সফল হয়নি সংগ্রহ অভিযান।

[৪] খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে মাত্র মাত্র ৫৪ হাজার ৬৭৮ মে. টন ধান। অর্থাৎ তিন ভাগের দুই ভাগ অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন ধান কম সংগৃহিত হয়েছে।

[৫] এই বিভাগের শুধুমাত্র মাগুরা জেলায় নির্ধারিত টার্গেট অর্জিত হয়েছে। মাগুরা জেলায় টার্গেট ছিল ৪ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন। নড়াইল জেলায় টার্গেট ছিল ৬ হাজার ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৯০৪ মেট্রিক টন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় টার্গেট ছিল ৪ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৪ মেট্রিক টন। এছাড়া বাকি আটটি জেলার মধ্যে যশোর জেলায় টার্গেট ছিল ২১ হাজার ৮৭৯ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন। খুলনা জেলায় টার্গেট ছিল ৮ হাজার ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৫৮১ মেট্রিক টন। সাতক্ষীরা জেলায় টার্গেট ছিল ১০ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন। বাগেরহাট জেলায় টার্গেট ছিল ৮ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন। ঝিনাইদহ জেলায় টার্গেট ছিল ১১ হাজার ৪৫৯ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন । কুষ্টিয়া জেলায় টার্গেট ছিল ৪ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে মাত্র এক হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন । মেহেরপুর জেলায় টার্গেট ছিল ২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ধান। অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।

[৬] সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খোলাবাজারে এবার ধানের দাম বেশি। ফলে চাষিরা গুদামে ধান দেননি। সাম্প্রতিককালে চালের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। চাল সরবরাহে মিল মালিকরা সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন। মিল মালিকরা বাজার থেকে ধান কিনে চাল তৈরি করেছেন। এ কারণে বেড়ে যায় বোরো ধানের দাম। যে কারণে চাষিরা খাদ্য গুদামে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। ফলে খাদ্য বিভাগের বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে।

[৭] চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম লায়েক আলী বলেন, ‘করোনার ছাড়াও প্রতিকূল পরিস্থিতিই এবার ধান চাল সংগ্রহে বড় বাধা ছিল। বাজারে ধানের স্বল্পতা ছিল। বাজার থেকে চাল কিনে গুদামে দিলে আমাদের কেজিপ্রতি ৪ টাকা লোকসান দিতে হতো। তবে সংগ্রহের সময়সীমা ১৫ দিন বাড়িয়ে দিলে মিলাররা চুক্তির চাল গুদামে সরবরাহ করতে পারতেন।’

[৮] যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুর রহমান জানান অন্যান্য জেলার তুলনায় যশোর জেলায় বেশি চাল সংগ্রহ হয়েছে দাবি করে জানান, যশোর জেলায় চাল সংগ্রহের টার্গেট ছিল ২৬ হাজার ২০২ মেট্রিক টন, সংগ্রহ হয়েছে ২৪ হাজার ৫৮১ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন। তবে ধান সংগ্রহ অভিযানে তেমন সাড়া মেলেনি। ধান সংগ্রহের ২১ হাজার ৮৭৯ মেট্রিক টন টার্গেটের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। সময় কিছুটা বাড়িয়ে দিলে চালের টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হতো।

[৯] এ ব্যাপারে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান খান জানান, মিলারদের সাথে চুক্তি সম্পাদনের পরই হঠাৎ করে ধান-চালের দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া করোনার ভাইরাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবেশ সংগ্রহ অভিযানের অনুকূলে ছিল না। তারপরও এই বিভাগে প্রায় ৯৩ শতাংশ চাল এবং ৬৪ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

[১০] খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (সংগ্রহ) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বোরো সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি তেমনটি বলা যাবে না। কারণ, আমাদের মূল যে টার্গেট ছিল সেটি পূরণ হয়েছে। বাকি যেটা হয়নি সেটা ছিল আনুসঙ্গিক মাত্র।’ সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত