প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজবাড়ীতে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি, দেখা দিয়েছে ভাঙন

সোহেল মিয়া: [২] গত কয়েক দিনে রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি কমে গেলেও তা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজবাড়ীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩টি গেজ স্টেশন পয়েন্টর মধ্যে ৩টি পয়েন্টেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।এতে দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং একটি পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পানি বৃদ্ধিতে নতুন করে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

[৩] মঙ্গলবার(৩১ আগস্ট) সকালে ৮টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

[৪] পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর তিনটি গেজ স্টেশন পয়েন্টের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পানি ৪ সেন্টিমিটার বেরে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সদরের মাহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

[৫] এদিকে পানি বৃদ্ধিত পাংশার হাবাসপুর, সেনগ্রাম, কালুখালীর রতনদিয়া, হরিনাবাড়িয়ার চর, সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের চর কাঠুরিয়া,চর মৌকুড়ি, চর আমবাড়িয়া, বরাট ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোট ভাকলা, কুশাহাটার চর, বেতকার চরে কায়েক হাজার পরিবার পানি বন্দি রয়েছে। পানিবন্দি ঐ সব এলাকার মানুষ শিশু বাচ্চা ও গবাদিপশু নিয়ে অনেকটা অনাহারে দূর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। পানিবন্দি সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এছাড়া বন্যায় প্লাবিত কিছু দূর্গম চরানঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলদস্যু ও ডাকাতদের উৎপাত। ফলে ঐ সকল চরাঞ্চলের অনেক মানুষকেই রাত জেগে লাঠি হাতে পাহাড়া দিতে হচ্ছে জানমালের।

[৬] জানা গেছে, জেলায় ৫ টি উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

[৭] এর আগে, হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল সকালে সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতদিয়ায় ৪নং ফেরিঘাটের পাশে সিদ্দিক কাজীর পাড়ায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে নদীপাড়ের একমাত্র মসজিদ সহ চারটি বাড়ী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে নদী তীরবর্তী ১০০ মিটার এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এসময় ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে আরও ২০টি পরিবার। হুমকিতে রয়েছে ৪টি ফেরিঘাট, ঘাটের সংযোগ সড়ক, ২ শতাধিক পরিবারসহ বহু স্থাপনা।

[৮] সদরের আমবাড়িয়ার চরের পানিবন্দি সালমা খাতুন বলেন, আমরা গত কয়েকদিন ধরেই পানিবন্দি রয়েছি। বাড়ির চারিপাশেই পানি। চুলা জ্বালাতে পারি না। ছোট ছোট দুই শিশু সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি।চারপাশে পানি থাকায় সাপ ও পোকামাকড়ের ভয় ও রয়েছে। নতুন করে আবার ডাকাতের ভয় যোগ হয়েছে। খুবই দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি।

[৯] দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছিলো।হঠাৎ করেই তা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে গতকাল সিদ্দিক কাজীর পাড়ায় এক মাত্র মসজিদ সহ কয়েকটি বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া পানি বৃদ্ধিতে দৌলতদিয়া প্রায় ২ হাজার পরিবার পানি বন্দি রয়েছে।

[১০] পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন,উজান থেকে নেমে আসা ঢলেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরও কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। পানি বৃদ্ধিতে গতকাল দৌলতদিয়ায় ভাঙন দেখা দিলে ভাঙনের স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করেই দৌলতদিয়া ভাঙন ঠেকাতে কাজ করা হবে।

[১১] জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক বলেন, জেলায় আমরা ৭ হাজার ৫১৫ পরিবারের তথ্য পেয়েছি যারা পানিবন্দি রয়েছে। এই সকল পানি বন্দি পরিবারের মধ্যে ৫ হাজার ৭৮৭ পরিবারকে এই পর্যন্ত ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এখনো ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া অব্যহত রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত