প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উৎপল শুভ্র: শ্যাম্পেন-রাজধানীতে মেসির পিএসজি অভিষেক

উৎপল শুভ্র: এই প্রথম বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবের জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দলবদলের পর থেকেই যে অপেক্ষায় দিন কাটছিল ফুটবল বিশ্বের, অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মেসি মাঠে নামলেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের জার্সি গায়ে। কেমন হলো সেই অভিষেক?

বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় অভিষেক হয়েছিল বদলি হিসেবে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের জার্সি গায়ে লিগ ওয়ানেও তা-ই। চাইলে আরেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বার্সেলোনার হয়ে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন এক ব্রাজিলিয়ানের পরিবর্তে। যদিও জন্মগতভাবে ব্রাজিলিয়ান ডেকো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন পর্তুগালের হয়ে। পিএসজির হয়েও অভিষেক আরেক ব্রাজিলিয়ান নেইমারের বদলি হিসেবে। পিএসজির জার্সি গায়ে মেসিকে দেখার অপেক্ষা ফুরোলেও মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে ত্রিফলা দেখার অপেক্ষাটা তাই আরেকটু দীর্ঘায়িত হলো।

৬৬ মিনিটে যখন নেমেছেন, ততোক্ষণে পিএসজি ২-০ গোলে এগিয়ে। দুটি গোলই কিলিয়ান এমবাপ্পের। যাঁর পিএসজি ছেড়ে চলে যাওয়ার গুঞ্জনে ফুটবলাকাশ মুখরিত। যদিও ম্যাচশেষে পিএসজির কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দাবি করেছেন, এমবাপ্পে পিএসজি ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন না। এটাকে যেন কেউ শুধুই তাঁর আশা হিসেবে না দেখেন, সে কারণেই হয়তো উল্লেখ করেছেন ক্লাবের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফি ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিওনার্দোর কথা, ‘আমাদের চেয়ারম্যান ও লিওনার্দো এ ব্যাপারে খুব পরিষ্কার: সে (এমবাপ্পে) আমাদের সঙ্গেই থাকছে। ওকে পেয়েছি বলে আমি খুব খুশি। হি ইজ আ গিফট’।

পচেত্তিনোর আশাবাদ সত্যি হলে মেসি-এমবাপ্পে যুগলবন্দি আরও দেখা যাবে। এদিন যতটুকু দেখা গেল, তাতে মেসি বার তিনেক পাস বাড়ালেন এমবাপ্পেকে। ফিরতি পাস অবশ্য আর পাননি। একবার ডান দিক থেকে ট্রেডমার্ক সেই জাদুকরী দৌড় শুরু করার পর তিন ডিফেন্ডারকে এগিয়ে আসতে দেখে বল বাড়িয়ে দিলেন এমবাপ্পের দিকে। এমবাপ্পে নিজের হ্যাটট্রিকের কথা ভুলে গিয়ে বল ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বক্সে ঢুকে যাওয়া মেসিকে। কিন্তু রিমসের ডিফেন্ডার তা আর মেসির পায়ে যেতে দেননি।
যথারীতি ফাউলের শিকার হলেন বেশ কয়েকবার। মনে রাখার মতো মুহূর্ত হয়তো উপহার দিতে পারেননি, যা আসলে মনে করিয়ে দিয়েছে, মেসি-রোনালদোরা দিনের পর দিন অতিমানবীয় সব কাণ্ডকীর্তি করে গেলেও তাঁরাও আসলে রক্তমাংসেরই মানুষ। আবেগময় এক দলবদল, তার ওপর প্রায় দেড় মাস কোনো ম্যাচ খেলেননি। সর্বশেষ তো ফুটবলার মেসির চির আক্ষেপ মেটানো ওই কোপা আমেরিকা ফাইনাল। রিমসের মাঠে স্বাগতিক দলের প্রথম ম্যাচে মাঠে দর্শক এসেছিল নয় হাজারেরও কম। লিওনেল মেসিকে দেখবেন বলে এই ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে হট কেকের মতো। সংখ্যাটা ২০,৫২৫। কালো বাজারে ছয় হাজার ইউরো পর্যন্ত নাকি টিকিটের দাম উঠেছে। এত টাকা দিয়ে যাঁরা মাঠে এসেছেন, তাঁরা মেসি-জাদু দেখতে না পেলেও ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে রইলেন। বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবের জার্সি গায়ে মেসিকে প্রথম মাঠে নামতে দেখার স্মৃতি তো বাকি জীবন গল্প করার মতোই।

ফরাসি ফুটবলে অভিষেকের স্থান ও প্রতিপক্ষও মেসির সঙ্গে মানানসই-ই হয়েছে বলতে হবে। প্যারিস থেকে ৯০ মাইল দূরের রিমস্ শুধু ফ্রান্সেরই না, পুরো বিশ্বেরই আনঅফিসিয়াল শ্যাম্পেন ক্যাপিটাল হিসেবে স্বীকৃত। মেসির খেলার সঙ্গেও তো শ্যাম্পেনের উপমাটা খুব ভালো যায়। ক্লাব হিসেবেও রিমস্ ফরাসি ফুটবল ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় ধারক। সাম্প্রতিক অতীত তেমন উজ্জ্বল না হলেও (১৯৭৯ সাল থেকে লিগ টুতেই বেশি খেলতে হয়েছে) সাতটি লিগ শিরোপা আছে তাদের। সবচেয়ে বড় গৌরব অবশ্য দুটি ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল খেলা। ১৯৫৬ ও ১৯৫৯ সালে যে দুটি ফাইনালেই হারতে হয়েছে প্রতিপক্ষ হিসেবে অপ্রতিরোধ্য রিয়াল মাদ্রিদ ছিল বলে। ফরাসি ফুটবলের প্রথম সোনালি প্রজন্ম রিমসেরই উপহার। যাঁদের মধ্যে রেমন্ড কোপা, জাস্ট ফন্টেইনের মতো প্রাতঃস্মরণীয় নাম আছে।

পেট্রো ডলারের আশীর্বাদ পাওয়ার পর থেকে লিগ ওয়ানে পিএসজির বেশির ভাগ ম্যাচ যেমন একতরফা হয়, মেসির অভিষেক ম্যাচটা মোটেই সেরকম হয়নি। রিমস্ তারকাখচিত প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভালোই লড়েছে। হয়তো প্রতিপক্ষ দলে লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে উজ্জীবিত হয়েই। এটাকে আবেগতাড়িত কোনো কথা বলে ধরে নেবেন না। এর স্বপক্ষে প্রমাণ তো ম্যাচ শেষেই পাওয়া গেছে। রিমসের খেলোয়াড়েরা সব পরিণত হয়েছেন মেসি-ভক্তে। লাইন দিয়ে ছবি তুলেছেন মেসির সঙ্গে। রিমসের গোলকিপার প্রেদ্রাগ রাইকোভিচ তো শুধু তাতেই সন্তুষ্ট হননি। তাঁর শিশুপুত্রকে মেসির কোলে তুলে দিয়ে ছবি তুলে রেখেছেন। শিশুপুত্রের মেসি-মহিমা বোঝার বয়স হয়নি। কিন্তু একদিন তো হবে।

অভিষেক ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ পচেত্তিনো ‘লিও এখনো সেরা ফর্মের কাছাকাছিও নেই, বরং অনেক দূরে। তবে সে ভালোভাবে অনুশীলন করছে এবং সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পুরো ফিট হয়ে যাবে। ‘আমরাও তার সেরাটা দেখার অপেক্ষায় আছি। ওর অভিষেকটা হয়ে গেল বলে আমার ভালো লাগছে, ওর জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ও ভালোই তো খেলেছে, বলে প্রথম স্পর্শ থেকেই ও দলের মধ্যে একটা শান্তির ভাব নিয়ে এসেছে। জয় দিয়ে শুরু করাটাও ভালো হয়েছে ওর জন্য। শুধু আমাদের সমর্থকেরাই নয়, সব দর্শকই যে ওর জন্য গলা ফাটিয়েছে, এটাও খুব ভালো লেগেছে। লিও এটা অর্জন করেছে’। সূত্র : উৎপল শুভ্রডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত