টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকাটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা। একইসঙ্গে বাংলাদেশিদের ভাই বলেও সম্বোধন করেছেন তিনি।
ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত তাই বিশ্বকাপই বর্জন করলো বাংলাদেশ। আইসিসির কোনা সদস্য দেশ লাল সবুজদের সমর্থন না দিলেও একমাত্র পাশে ছিল পাকিস্তান। এমনকি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটিও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
বিশ্বকাপের অংশ নিতে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে পাকিস্তান। কলম্বোয় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনেও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আঘা। টুর্নামেন্টে লাল সবুজদের না থাকাটাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে সালমান আঘা বলেন, ‘বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তারা এই টুর্নামেন্টে নেই—এটা সত্যিই দুঃখজনক।’
বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানায়, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নেয়া হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রকাশ হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান।
পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘ধন্যবাদ, পাকিস্তান।’ তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন।
এর আগে ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলব না। খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়। আমরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত।’
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এবং পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতি ও নিরাপত্তা প্রশ্নে আইসিসির ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশ্ব ক্রিকেটে এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।