কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে নিজ বাসায় জহুরা মতিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ভাড়াটিয়া দম্পতি। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরের বত্রিশ নূরানী সড়কের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে মনিরা বেগম রুমা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে।
অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া দম্পতি হলেন, সদর উপজেলার করমুলী বিন্নগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. আসিফ (২৪) ও তানিয়া আক্তার (২০)। অন্যদিকে ভুক্তভোগী জহুরা মতিন জেলা শহরের বত্রিশ নূরানী সড়কের মৃত এম এ মতিনের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বত্রিশ নূরানী সড়কের বাসায় একাই থাকতেন জোহরা খাতুন। অভিযুক্ত মো. আসিফ (২৪) ও তানিয়া আক্তার (২০) দীর্ঘ চার মাস ধরে ভাড়া পরিশোধ না করে বাসায় বসবাস করছিলেন। ভাড়া চাইলে তারা গালিগালাজ ও হুমকি দিতেন। ঘটনার দিন দুপুরে বাসায় একা থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জহুরা মতিনকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানের দুল ও হাতের বালা লুট করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে মনিরা বেগম রুমা বলেন, আম্মাকে দুপুরে ফোন দিলে আম্মার গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে দ্রুত বাসায় যাই। গিয়ে দেখি গেইটে তালা দেয়া। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় আম্মাকে পাই। ভাড়াটিয়া দম্পতিও বাসায় নেই। পরে আম্মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক থানায় খবর দিলে পুলিশ হাসপাতালে আসে। পরে পুলিশ বাসায় যায়।
রুমা আরও বলেন, ভাড়াটিয়া দম্পতিকে ধরতে পারলে সবকিছু বের হয়ে আসবে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, বুধবারে খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।